হিজাব পড়ায় ভারতের কর্নাটক রাজ্যের একটি কলেজে ঢুকতে দেয়া হয়নি মুসলিম ছাত্রীদের। বৃহস্পতিবার সকালে কলেজটির অধ্যক্ষ ছাত্রীদের সরিয়ে দিয়ে গেট লাগিয়ে দেন।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অধ্যক্ষ যখন ছাত্রীদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন তখন তারা চিৎকার করে বলছিলেন, ‘হিজাব না পরার কোনো বিধান নেই।’

রাজ্যটিতে হিজাবের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকতে না দেয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

রাজ্যটির উদুপি জেলার উপকূলীয় শহর কুনদাপুরের সরকারি জুনিয়র কলেজের ঘটনা এটি। কলেজটির অধ্যক্ষ রামকৃষ্ণ জিজে।

অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীদের হিজাব খুলে আসতে বললে এক ছাত্রী প্রশ্ন তুলেন, এ ধরনের কোনো নিয়ম না থাকলেও কেন তারা তা করবেন।

ছাত্রীদের একজন ক্লাসে ঢুকতে দিতে শিক্ষকের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষার আর মাত্র দুই মাস বাকি আছে।’

এদিন প্রতিবাদী অন্তত ২০ জন ছাত্রী ক্লাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা কলেজের গেটে অবস্থান করেন।

এর আগে বুধবার মুসলিম ছাত্রীরা ক্লাসে হিজাব খুলতে অস্বীকার করার পর শতাধিক হিন্দু ছাত্র গেরুয়া শাল পরে ক্লাসে ঢুকে।

পরে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কলেজ কর্তৃপক্ষ কুন্দাপুরের বিজেপি এমপি হালাদি শ্রিনিবাস শেঠির সাথে দেখা করে। শেঠি ওই কলেজ পরিচালনা বোর্ডেরও একজন সদস্য। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে সবার জন্যই এক নিয়ম বলবৎ করা হবে।

ওই ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার আবারো হিজাব পরেই কলেজে যায়।

এদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুসারে ছাত্রীরা কলেজে হিজাব পরতে পারবে তবে ক্লাসের সময় তা খুলে রাখতে হবে।

কিন্তু কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগারা জ্ঞানেন্দ্র বলেছেন, ছেলেমেয়েরা অবশ্যই স্কুলে হিজাব বা গেরুয়া শাল পরবে না।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্কুল হলো এমন জায়গা যেখানে সব ধর্মের শিশুদের এটা শিখাতে হবে যে, আমরা আলাদা কেউ নই, আমরা সবাই ভারত মাতার সন্তান।’

এদিকে, প্রতিবাদী ছাত্রীরা এ বিষয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিজেপিশাসিত কর্নাটকে এটা এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা। এক মাস আগে উদুপির পিইউ গার্লস কলেজে প্রথম এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পর এর প্রতিবাদ শুরু হয়। সে কলেজের ছাত্রীরা এখনো ক্লাসে হিজাব পরার অধিকার আদায়ে লড়ে যাচ্ছেন।

তখন ছয় ছাত্রী অভিযোগ করেছিল যে, হিজাব পরায় তাদের এক সপ্তাহ ক্লাসে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

সূত্র : এনডিটিভি