বাপ্পি লাহিড়িকে বলা হয় ভারতীয় ডিস্কো গানের প্রবর্তক। গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছেও তিনি বিজেপির রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন। ভারতে চরম হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির জোয়ারের মধ্যেও তিনি নির্বাচনে জিততে পারেননি। নরেন্দ্র মোদির সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার পরেও তিনি ছিলেন ব্যর্থ এক রাজনীতিবিদ।
ভারতীয় সঙ্গীতকার বাপ্পি লাহিড়ি বুধবার মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি যেমন একদিকে ছিলেন চলচ্চিত্রের নেপথ্য গায়ক, তেমনই ছিলেন সুরকার। ভারতে ডিস্কো গানের প্রবর্তক এ শিল্পীর যে কয়েকটি গান তাকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে দিয়েছিল, তার মধ্যে আছে 'চলতে চলতে', 'ডিস্কো ড্যান্সার', 'শারাবি' ইত্যাদি গান। উনিশশো বিরাশি সালে মুক্তি পাওয়া মিঠুন চক্রবর্তী অভিনিত হিন্দি ছায়াছবি ডিস্কো ড্যান্সারের টাইটেল সঙ্গীত 'আই অ্যাম এ ডিস্কো ড্যান্সার' গেয়ে তিনি আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান।
কিন্তু, গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছেও বিজেপির রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন বাপ্পি লাহিড়ি। ভারতে ওই সময় চরম হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপির জয়জয়কার। ওই সময় ভারতের রাজনীতিতে চলছিল নরেন্দ্র মোদির জোয়ার। এমন সময়ে এক সাক্ষাৎকারে ২০১৬ সালে নরেন্দ্র মোদির সম্বন্ধে বাপ্পি লাহিড়ি বলেছিলেন, ‘আমি তার খুব কাছের বন্ধু। তার কাছে মাঝে মাঝেই যাতায়াত আছে আমার। সঙ্গীত নিয়ে মোদি খুবই উৎসাহী। সব সময় গানবাজনা নিয়ে জানতে চান আমার কাছে। ড্রাম বাজানোর খুব শখ প্রধানমন্ত্রীর। মেঘালয়ে গিয়ে ড্রাম বাজিয়েছিলেন একবার।’
তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমি নিজেও তবলা বাজাই। তাই বুঝতে পারি যে ড্রাম বা তবলার মতো তালবাদ্যগুলো খুশি থাকার একটা সঙ্কেত।’
এরপর তিনি নির্বাচনে অংশ নেন এবং হেরে যান। নরেন্দ্র মোদির সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার পরেও তিনি ছিলেন ব্যর্থ এক রাজনীতিবিদ। সম্ভবত, ভারতের সাধারণ জনগণ তাকে শিল্পী হিসেবে গ্রহণ করলেও রাজনীতিবিদ হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিল না। ব্যপারটা প্রমাণিত হয়েছিল লোকসভা নির্বাচনের ভোটের মাঠে।
২০১৪ সালে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি-র টিকিটে লড়েছিলেন বাপ্পি লাহিড়ি। শেষ পর্যন্ত ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান তিনি। ভোটের হিসেবে তিনি তৃতীয় স্থান লাভ করেছিলেন।
ওই লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ে পেয়েছিলেন মোট পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৩ ভোট এবং মোট ভোটের ৩৯.৯০ শতাংশ। তিন লাখ ৬২ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন সিপিআই(এম) প্রার্থী তীর্থঙ্কর রায়। তিনি মোট ভোটের ২৮.০৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। মাত্র দু’লাখ ৮৭ হাজার ৭১২ পেয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করেছিলেন ভারতীয় ডিস্কো গানের প্রবর্তক বাপ্পি লাহিড়ি। তিনি মোট ভোটের মাত্র ২২.২৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
সূত্র : বিবিসি ও ভারতীয় গণমাধ্যম






