নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পাস হলো এবারের অর্থবছরের বাজেট। চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার পাস হওয়া বিশাল বাজেট অন্যান্য অর্থবছরের পাস হওয়া বাজেট থেকে অনেক ব্যতিক্রম এবং অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি।
রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বাজেটের অর্থ যেন অবৈধভাবে কেউ নিজের পকেটে না রাখতে পারে এজন্য সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতি বছর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে বাজেটে নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু দেখা যায় এসব অর্থ দরিদ্র জনগণের স্বার্থে ব্যয় করা হয় না। ফলে থমকে যায় দরিদ্র শ্রেণীর উন্নয়নের কর্মধারা। কিছু অসাধু লোক রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বাজেটের অর্থ কিভাবে ভোগ করবে তার নীলনকশা আঁকে।
কেবল বাজেট পাস হয়েছে, তাই সব প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে কিভাবে বাজেটের সঠিক ব্যবহার করা যায় তা সরকারকেই ভাবতে হবে। লাখ কোটি থাকা বাজেট পেশ হয় জনগণের উপকারের নিমিত্তে, অথচ সেই অর্থ জনগণের কোনো কাজে ব্যবহার হলো তা যদি না-ই জানা যায় বা নির্ধারিত খাতে ব্যবহারের আগেই খরচ হয়ে যায় তাহলে দেশের উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব?
এবারের বাজেটে রাস্তাঘাট নির্মাণ বা সড়কপথে উন্নয়নের জন্য অনেক বড় আকারের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্থ কি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে? অনেক সড়কের আজ বেহাল দশা, একটু বৃষ্টিতেই চলাচলে বিঘœ ঘটে। হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করছে এসব বেহাল দশার সড়ক দিয়ে। অথচ প্রত্যেক বছর হাজার কোটি টাকা সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ করা হচ্ছে। অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও দেখা যায় খানাখন্দে ভরা এসব সংস্কারে কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয় না।
ফলে দিন দিন বেড়ে চলছে দুর্ভোগ। অথচ বাজেটে পাসকৃত আর্থিক বরাদ্দ ওই সড়কগুলোর নামেই পাস হয়। সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলে দেখা যায় টাকাগুলো ঠিকভাবেই কাগজ কলমে ব্যয় দেখানো আছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। এসব টাকা আত্মসাতে কারা সংশ্লিষ্ট তা খুঁজে বের না করলে দেশের উন্নয়ন চরম হুমকির মুখে পড়বে।
এবারের বাজেটে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ওপর কর বা ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এই সুযোগে কেউ যেন নিত্যপণ্যের দাম কোনো অজুহাত দিয়ে না বাড়াতে পারে সেদিকে কর্তৃপক্ষকে সুদৃষ্টি রাখতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কারণ কিছু কুচক্রী বাজেটে ভ্যাট বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে। বাজেট ঘোষণার পরপরই দেশের জনগণ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে। স্থানীয়পর্যায়ে বাজেটের অর্থ সঠিকভাবে খরচের জন্য সরকারকে নির্ভরযোগ্য কমিটি গঠন করে দিতে হবে, বাজেটের অর্থ কারা নিজেদের স্বার্থে এবং অনৈতিকভাবে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভোগ করছে তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বাজেটে শিক্ষা খাতে ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণার্থে প্রচুর বরাদ্দ রাখা হয়, অনেকে এসব টাকা আত্মসাৎ করে ফেলে শিক্ষার্থীদের অজান্তে। নীতিনিয়ম একেবারেই যেন দেশ থেকে উঠে গেছে? কে দেবে কার কাছে বিচার? প্রভাবশালী অসাধু দুর্নীতিপরায়ণ লোকেরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে চায়।
অনেক প্রকল্পে দেখা যায়, পাঁচ অর্থবছরে পাঁচবারের অধিক অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, অথচ এ যাবৎ কোনো কাজ আরম্ভ হওয়ার নমুনাই পাওয়া যাচ্ছে না আর কবে নাগাদ এসব জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু হবে এরও হদিস বের করা মুশকিল। বাজেটে যে যে খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনবান্ধব হয়ে কাজ করার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। তা না হলে এসব প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ কুচক্রীদের পকটে চলে যাবে। শুধু বাজেট পাস করলেই চলবে না। কিভাবে বাজেটের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা হবে এর সঠিক পন্থা এখনই বের করতে হবে।হ
নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পাস হলো এবারের অর্থবছরের বাজেট। চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার পাস হওয়া বিশাল বাজেট অন্যান্য অর্থবছরের পাস হওয়া বাজেট...
