‘কারো কথাই আমলে নিচ্ছে না সরকার’Ñ আবারো সুন্দরবন রা আন্দোলনের অনুষ্ঠানে মন্তব্য নেত্রী সুলতানা কামালের। সুন্দরবন কেন, এদের হাতে বোধহয় সব ধ্বংস হয়ে যাবে। দুঃখজনক, ১০ বছর ধরেই ৯৯ শতাংশ বুদ্ধিজীবী যেন ডিল্যুশনাল।
যা সত্য, অতীতের ধারাবাহিকতায় ১/১১, ২০০৯, ২০১৪-এর সরকার। একই দল, একই পরিবার, একই মুখ, একই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। পার্থক্য শুধুই ‘সর্বাধিনায়ক’। সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফি কিংবা ইরানের শাহ... ফ্যাসিবাদী সত্ত্বেও, পরে একজনও বংশপরম্পরার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশে কিভাবে সম্ভব?
সাঁতার না জানলে, সমুদ্রবিলাস নির্ঘাত মৃত্যুর সাথে কোলাকুলি। সত্য যে, এরশাদ-পরবর্তী সময়ে, একমাত্র ’৯৬ ছাড়া আর কখনোই সামনের দরজা দিয়ে মতায় আসা হয়নি। সর্বশেষ দুই টার্মের সাথে পূর্ববর্তী তিন পার্লামেন্টের কোনো মিল নেই। এমনকি ’৯৬-এর গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগের সাথেও সর্বশেষ দুই পার্লামেন্ট শতভাগ বিচ্ছিন্ন। অগণতান্ত্রিক দলের হাতে ১/১১-এর কুশীলবরা, পরিকল্পিতভাবে উত্তরাধিকার হস্তান্তর শেষে আমেরিকায় আত্মগোপনে। পরে উত্তরাধিকার রা করছে একটি সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী। এদের কারণেই সর্বশেষ দুই টার্মের একনায়কত্ব, রেজাশাহ পাহলভির তুলনায় হাজার গুণে জটিল। পাহলভিদের রেজিম শেষ হলেও এ দেশে ২০৪১ পর্যন্ত মতায় থাকার ঘোষণা!!!

২.
সুলতানা আপাদের মতো বুদ্ধিজীবীরা কী ইচ্ছা করেই বাকশালের কথা ভুলে গেছেন? বাকশাল এবং সর্বশেষ দুই টার্মÑ হুবহু। একে আলাদা করে দেখার নাম ডিল্যুশন বা বিভ্রান্তি।
’৭৫-এর স্বর্ণালি যুগে শেখ ফজলুল হক মনির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যটি এখনো মিডিয়ায়। ৪৩ বছর পরের প্রোপটে যা ’৭৫-এর চেয়ে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। বলেছিলেন, ‘মুজিব ছাড়া বাংলাদেশে কোনো আইন আমরা মানি না, মুজিব মানেই আইন।’ চতুর্থ এবং ১৫তম সংশোধনী, ৪৩ বছর পরওÑ কার্যত আমিই রাষ্ট্র, আমিই আইন, আমিই সংসদ, আমিই সংবিধান, আমিই সরকার, আমিই বিরোধী দল...।
বেশির ভাগ বুদ্ধিজীবী কেন সাধারণ পাবলিকের চেয়েও বেশি ডিল্যুশনাল? সভা-সেমিনারে পাবলিককে বিভ্রান্ত করাই যেন কাজ। যে কারণে জেসমিন রেভ্যুলেশন সফল; কিন্তু ‘বাংলা বসন্ত’ ভ্রƒণেই গর্ভপাত। ঐক্যজোটবাদীরা সাঁতার না জেনেই সমুদ্রবিলাসে ছুটছেন। আবহাওয়া অফিস থেকে ৯ নম্বর বিপদসঙ্কেত; কিন্তু সাথে ট্রানজিস্টার নেই। বিএনপি জোটের এই অবস্থা কেন হলো, খালেদা জিয়া কেন জেলে, ঐক্যজোটবাদীরা সত্য এড়িয়ে ভ্রান্তিবিলাসে মগ্ন। তাই এটা ব্যর্থ হওয়ার কথা। কারণ ১/১১-এর ধারাবাহিকতায়, সর্বশেষ দুই পার্লামেন্টের কেমিস্ট্রি বুঝতে অম। এরশাদ-পরবর্তী সংসদগুলোয় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় মতা হস্তান্তর হলেও, ১/১১ এবং পরবর্তী দুটি সংসদই, গণতান্ত্রিক যুগের মৃত্যু। যে কারণে খালেদার মতো মহীরুহের ডেস্টিনেশন একটি নোংরা নিঃসঙ্গ জেলে। কিভাবে সম্ভব?
যা ঘটেছিল : ২০০৯ এবং ২০১৪-এর পার্লামেন্টে, একসাথে ৭৫ এবং ৫৭ দুটোই চালু রয়েছে (২০০৬ বিএনপি ৫৭ আনলেও, ২০১৩ সালে যমদূত ঢুকিয়েছে লীগ)। দুটোই অ্যাবসলুট মতা এবং প্রকৃতপক্ষে ওয়ান পার্টি স্টেট। সরাসরি বলার বদলে, এই দফায় একটুখানি গণতন্ত্রের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে এরশাদকে সামনে আনা হয়েছে।
ধারাবাহিকভাবে যা ঘটেছিল, কেউ একে ফাউল বলবেন না। অস্ত্রের মুখে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মতা দখল করে, দুই নেত্রীকে সাজানো গ্রেফতার দেখিয়ে, একজনকে কিছু দিনের জন্য আমেরিকায় পাঠিয়ে, কুশীলবদের কালপেণ। টার্গেট, ২০০৮। ভার্জিনিয়ায় বিশেষ বাড়িতে নানা শক্তির সাথে মোলাকাত। হিলারি-প্রণবদের ষড়যন্ত্র নিয়ে আগেও লিখেছি।
বিমানবন্দরে ঘোষণা, ‘মতায় গেলে ১/১১ সরকারকে বৈধতা দেবো।’ তারই ঘোষণা, ‘১/১১ আমাদের আন্দোলনের ফসল।’ মিলিটারি শাসন কবে কারো আন্দোলনের ফসল হতে পারে? বরং আন্দোলন হয় মিলিটারি শাসন থেকে মুক্তি পেতে। হাইকমান্ড কী না জেনেই এটা বলেছেন? পরবর্তী সরকারকে মতায় বসিয়েছিল ১/১১ এবং সত্যি সত্যি কুশীলবদের বৈধতা দিয়ে রেখেছে, যা বিমানবন্দরের ওই ঘোষণার সাথে শতভাগ সঙ্গতিপূর্ণ।
২০০৯-এর শুরুতেই বিরোধী দল মাইনাসের কার্যক্রম উদ্বোধন করে দিয়েছে, ১/১১-এর উত্তরাধিকারীরা। শুরুতেই ২০১০ সালে জামায়াতকে মাইনাস করতে পদক্ষেপ। ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের মাধ্যমে বিএনপিকে মাইনাস। ১৫তম সংশোধনীতে দুই সামরিক সরকার বাতিল হলেও বৈধ ১/১১। ওই পার্লামেন্টেই সামনের সারিতে কে কোথায় বসবে, এই সামান্য বিষয় নিয়ে তুলকালাম। না সংসদে বসতে দেয়, না বাইরে দাঁড়াতে দেয়। পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকেই ১৫টি মামলা খারিজ।
২০১৩-এর কথা মনে আছে? ততদিনে চারদলীয় জোট সঙ্কুচিত হতে হতে পরমাণুর মতো ুদ্র। শুরুতেই পুরো পার্লামেন্ট রেডিক্যাল, ব্যক্তিরাও রেডিক্যালাইজড। চারদলীয় জোটের বিরুদ্ধে যেন প্রত্যেক দিনই ২৬ মার্চ। এর কোনো বিচ্ছিন্ন বর্ণনার প্রয়োজন নেই। ২০১০ থেকে ২০১৩, ১/১-এর ক্যু-দাতাদের ধারাবাহিকতার সন্দেহাতীত প্রমাণ; যেন চারদলীয় জোট কোনো বহিরাগত শত্র“ এবং এদের শায়েস্তা করতেই ফিরোজা এবং পল্টনের ওপর অ্যাটাক। গুলশান ও পল্টনের সামনে হাজার হাজার সশস্ত্র লোকের রণত্রে। গুলশানের কয়েক মাইলজুড়ে জলকামান, বালুর ট্রাক, বুলেট, টিয়ার গ্যাস... অদ্ভুত দৃশ্য। ঢাকা থেকে দেশ বিচ্ছিন্ন। খালেদা থেকে দল বিচ্ছিন্ন। গণগ্রেফতার, হোটেল-মোটেলে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে কালো আইন জারি। ১/১১-এর ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ, টেলিফোনসহ সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো। ২০১৩ সাল শাহবাগীদের দখলে। টার্গেটকৃত ব্যক্তির ফাঁসি শেষ। মই দিয়ে অফিসে নেমে রিজভীকে তুলে নিয়ে গেল র‌্যাব।
সুতরাং ৫ শতাংশ সরকার, ভুয়া নির্বাচন, ভোট চুরির নির্বাচন, পাতানো নির্বাচন... গৌণ। যা বড় কথা, সংবিধান অনুযায়ী তিন মাস পরই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা। ’৯৬-তে সেটাই করেছিলেন খালেদা। ৫ জানুয়ারির ‘নিয়ম রা’র নির্বাচনের কথা হাইকমান্ডও বলেছিলেন। কিন্তু তিন মাসের কথা বলে পাঁচ বছর মতা দখলে রাখা হলে, ক্যু-দাতা নাকি স্বাভাবিক?
২০০৯-এর পার্লামেন্ট শেষ। বিএনপি-জামায়াত এক রকম ফিনিস। ৯২ দিনের আন্দোলন ফিনিস। ৯২ দিনের আন্দোলন চলাকালে আবারো মুহুর্মুহু ২৬ মার্চের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছিল। ১/১১-এর বসানো রেজিম। ডলারে কম পড়ায় খাই খাই ১৮ রাষ্ট্রদূত একসাথে গুলশানে গিয়ে খালেদাকে হুমকি। আন্দোলন বন্ধ না করলে ব্যবস্থা। সাধারণত একবার বজ্রপাতে মানুষ মারা যায়। কিন্তু খালেদার মাথার ওপর কয়েকটা বজ্রপাতের সাী সর্বশেষ দুই পার্লামেন্ট।
এরশাদকে নির্বাচনে বাধ্য করতে যা করেছিল দিল্লি এবং ঢাকা, সেটাই ক্যু-দাতা। অথচ সব দল ছাড়া, নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণাই ছিল এরশাদের। গণতন্ত্রকামীরা আশ্বস্ত। এরশাদকে বাগাতে ব্যর্থ হলে, তৃতীয়বারের মতো মিলিটারি রেজিম কায়েম করতে পারবে না। সাংবাদিকদের সামনে এরশাদের বক্তব্য, আত্মহত্যা করব, তার পরও সব দল না গেলে নির্বাচনে যাবো না। গিয়ে দেখেন, বালিশের তলে বিপদ আছে। জানি, আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।
সত্যি সত্যি বাঘ এসেছিল এবং সিএমএইচে নিয়ে গণতন্ত্রের হাড়-মাংস খেয়ে ফেলেছে। সুজাতা সিং উড়ে এসে যা বের করলেন, সেটাই ৫ জানুয়ারি। এখানে সরকারই বিরোধী দল, বিরোধী দলই সরকার।

৩.
আমার কথা ভুল নয়। ঐক্যজোটবাদীদের বলছি, ডিল্যুশনের সময় এটা নয়। অন্যথায়, তিন মাসের কথা বলে কেউ পাঁচ বছর মতা দখলে রাখতে পারে? কোন অদৃশ্য শক্তি পেছনে, একমাত্র হাইকমান্ড ছাড়া কেউ জানেন না।
ডিসেম্বর ২০১২। ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনে স্কাইপ কেলেঙ্কারি। কথোপকথনের প্রতিটি শব্দেই জামায়াত-বিএনপিকে মাইনাসের ষড়যন্ত্র ক্যু-দাতাদের। ১৭ ঘণ্টার টেপÑ২৩০টি ই-মেইল। সময়কালÑ২৮ আগস্ট ২০১২ থেকে ২০ অক্টোবর ২০১২। ইকোনমিস্টের পরই স্কাইপ কেলেঙ্কারি চলে গেল বিশ্ব মিডিয়ায়। বিচারপতি নিজামুল হকের কম্পিউটার দখলে নিয়েছিল হ্যাকাররা।
কেলেঙ্কারির উত্তাপে ১২ ডিসেম্বর হকের পদত্যাগ। তার পরও বন্ধ হয়নি কারসাজি। অদম্য হাইকমান্ড। নিজামুলের কাছে কামরুলের আবদার, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই ফাঁসির রায় চাই। পরে হক আবারো সিনহার দেয়া প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী, হাইকোর্টে নিয়োগ পেলেন। মনে আছে, অবসরে গিয়ে রায় লেখা নিয়ে খায়রুল হক আর সিনহাবাবুর ঝগড়া? বিচারকেরা এমন হলে, ভিকটিমরা কার কাছে যাবে? যা বুঝেছিলাম ২০১১ সালে, স্কাইপের পরও ডিল্যুশনমুক্ত হতে পারেননি বুদ্ধিজীবীরা।

ট্রাইব্যুনালের সাীদের জন্য কিছু নমুনা
একবার ভাবুন, ১৭ ঘণ্টার টেপে আর কী থাকতে পারে? আমি কয়েক মিনিট শুনেই, স্তব্ধ।
নিজামুল হক, ‘সরকার গেছে পাগল হইয়া, তারা ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে একটা রায় চায়। ... স্টেট মিনিস্টার আসছিলেন দেখা করতে সন্ধ্যায়। উনি বললেন, রায়টা তাড়াতাড়ি দেন। আমি বললাম, কেমনে দিমু... সময় পাইলে এক মাস ধইরা রায় রেডি করতাম। ... দুই ট্রাইব্যুনালকে একত্রে স্যারের রুমে বসাইয়া আলাপ করাব...।’ স্টেট মিনিস্টার কামরুলের রেফারেন্স দিয়ে নিজামুল, ‘আপনে গোলাম আযমকে আগে দেবেন। তার পরে তারা যা পারে করুক। আমি হাসলাম, আপনে চেষ্টা করতে পারেন।’
ট্রাইব্যুনালে নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও প্রবাসী জিয়াউদ্দিন আহমেদের সাথে প্রসিকিউটর, বিচারক এবং পরামর্শদাতাদের প্রত্যেক দিন অন্তত ২০ মিনিট কথোপকথন। সেখানে পরিকল্পিত তৎপরতার প্রমাণ রয়েছে। বিচারক নিজামুলকে জিয়াউদ্দিন, ‘কোন কেসটা আগে যাবে, সেটা যেন আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ভিত্তিতে হয়। যেটা সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট কেস, যে লোকের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, সেটা সবচেয়ে আগে করতে হবে বলে মনে করি।’
উত্তরে নিজামুল, ‘একটা কথা এগ্রি করছে, সাঈদী আর সাকা এত ভিন্ন কেন? গোলাম আযমরে করলে, তার পর নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান... এটা ফলো কইরা সবই করা যাইবে। আর চিফ বলে, একটা জাজমেন্ট দেও, তোমারে নিয়া আসি।’ উত্তরে জিয়াউদ্দিন, ‘আগে বড় সাহেবের জাজমেন্টটা দিয়া দেই।’ হেসে বললেন হক, ‘সিনহা বাবু কইছে, ডিসেম্বরের আগেই তিনটারে দিয়া দেন। আপনেরে প্রমোশন দিয়া নিয়া আসি। আমি বলছি, যা করার করেন, আগে আমার প্রমোশনটা দিয়া দেন।’
হেসে জিয়াউদ্দিন, ‘আগে বড়টারে, এরপর অন্যান্যগুলোও দেয়া যাবে...।’
বিচারক সোনা জাহাঙ্গীর সম্পর্কে কথোপকথন, ‘কোন দলের’? উত্তরে বলেছেন হক, ‘আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ।’ জিয়াউদ্দিন, ‘দুইটা এসএমএস আসছে, আপনার দুইটা অ্যাপলিকেশন সম্পর্কে।’ বিচারক, ‘দুইটা ফরেনার সাী? ...দিমু না।’ জিয়াউদ্দিন, ‘এটা কিন্তু লিখিত অর্ডার দিয়েন।’ গোলাম আযমের চার্জশিটের ফাইনাল ড্রাফট তৈরি করেছেন জিয়া। কথোপকথনের পর দিনই হুবহু চার্জশিট জারি করে আদালত। বিদেশী মিডিয়াগুলো এর সাযুজ্য নিয়ে তাই প্রশ্ন তোলে।
আমার প্রশ্ন, আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে কবে, কোন দেশে ফাঁসির রায় হয়েছে? জুরিসপ্র“ডেন্স কোথায় সেটা বলেছে? ট্রাইব্যুনালের অন্যতম সাী সুলতানা আপারা আর কত দেখার পর অনুতপ্ত হবেন? বুঝতে হবে কোনটি গণতন্ত্র মাইনাসের মঞ্চ।
এরপর ১ মিনিটও মতায় থাকার কারণ নেই। তারা কিন্তু আছেন। এটাই প্রমাণ, কোন ধরনের সরকার মতায়। বোঝার জন্য আরেকটি উদাহরণ। বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, তিনটা রায় দিলে প্রমোশন হবে। অর্থাৎ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে ফাঁসি। পরে ফাঁসির আদেশ দেয়া সিনহা বাবুই, অস্বাভাবিক সরকারের কাছ থেকে ‘রাজাকার’ তকমাপ্রাপ্ত হয়েÑ ফিউজিটিভ।

৪.
দিল্লি চেয়েছিল বিশেষ একটি দল এবং এক ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি মতায়। তারা বিএনপি-জামায়াতের গলায় ‘সন্ত্রাসী’ পদবি লাগায়নি? তারা ’৯০-পরবর্তী সরকারগুলোকে, ১/১১ দিয়ে বদলে দিয়েছিল। দিল্লির বিরুদ্ধে যাওয়ার শক্তি এই উপমহাদেশে কারোই নেই। তারা পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার মতো শক্তিমান। সিকিমকেও গিলে খেয়েছে। তারা ’৯৬-এর গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগকে শুধু অগণতান্ত্রিকই নয়, সহিংস বানিয়ে ফেলেছে। দিল্লির অগণতান্ত্রিক আচরণের সমালোচনা করেছিলেন সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারসহ অনেকেই।
সুলতানা আপাকে বলছি, বন্দুকের নলে র‌্যাবের গাড়িতে তুলে যেদিন এরশাদকে সিএমএইচে নিলো, সেটাই কি ১/১১-এর ধারাবাহিকতা নয়?
ফলে যা হওয়ার হয়েছে। এই শক্তি দুর্গে সীমাবদ্ধ। ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালায়। ১৫তম সংশোধনীতে জেনেশুনেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মৃত্যু ঘটিয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালানোর কারণ, রাস্তায় নামলে পরিণতি কী, সেটা জানা আছে। এ কারণেই সোস্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য এত ডেসপারেট। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান থেকে ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলম... সব বলে দিয়েছে।
জেলেই নিঃসঙ্গ খালেদার দুই ঈদ কাটল। অন্য দিকে গণভবনে সপরিবারে আনন্দের বন্যা। খালেদা এখন অতীত। সুলতানা আপাকে বলছি, কে চেয়েছিল এই বাংলাদেশ, আপনি মনে রেখেছেন?
জেলেই খালেদার জীবন কাটলে, তার পরও মানুষ তাকে মনে রাখবে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে। কখনোই তিনি দেশের সাথে প্রতারণা করেননি। ষড়যন্ত্র করতে দেশ ছেড়ে বিদেশে যাননি। এমনকি পুত্রশোকগ্রস্ত হয়েও আপসহীন বলেই জেলে। কিন্তু কিভাবে আওয়ামী লীগকে মনে রাখবে মানুষ? ’৭৫-এর পর ২১ বছর মতায় আসতে দেয়নি।
তিন মাসের কথা বলে পাঁচ বছর মতায়। এর নাম ১/১১-এর উত্তরাধিকার। সব দোষ লীগের নয়।
একনজরে উত্তরাধিকারের পার্লামেন্টÑ
চার-চামুচ Ñ দিল্লি।
তিন-চামুচ Ñ পুতিন।
দুই-চামুচ Ñ চীন।
এক-চামুচ Ñ অন্যরা। হ
ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com