বছরের পর বছর যেভাবে স্কুল-শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো এবং কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং শিক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতা উত্তরোত্তর প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী ক্লাসের পাঠদানে মনোযোগের চেয়ে প্রাইভেট পড়া ও কোচিংয়ের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠার প্রবণতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে শিক্ষকেরাও দিন দিন আর্থিক মোহে আবিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন।
নাম করা স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকদের অভিমত হচ্ছেÑ সরকারের জোরালো উদ্যোগ ছাড়া গাইড বই, প্রাইভেট পড়ানো এবং কোচিং সেন্টারের বিস্তার কোনোক্রমেই বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্য দিকে, প্রাইমারিপর্যায় থেকে শুরু করে এইচএসসি পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা অর্জনের চেয়ে ‘বারো দিনে মাস গণনা করা’ প্রাইভেট শিক্ষকদের বিদ্যা বিলি-বণ্টনের প্রতি শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে ভালো ফল অর্জনের বিষয়টি আলাদিনের চেরাগ মনে করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য, প্রকৃত শিক্ষাব্যবস্থা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা।
প্রসঙ্গত, শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো এবং কোচিং সেন্টার বন্ধ করার জন্য পটুয়াখালীর গলাচিপা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হালিম মিয়াসহ কেউ কেউ জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন। এই শিক্ষক উপজেলায় চারবার এবং জেলায় একবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে বহু সভা আহ্বান করে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের কুফল তুলে ধরছেন। সম্মিলিতভাবে সরকার ও অভিভাবক উদ্যোগী হয়ে প্রাইভেট এবং কোচিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেন। কারণ গরিব ছাত্রছাত্রীরা আর্থিক সঙ্কটে কোচিং করতে পারে না। তারা নিয়মিত ক্লাসে এসে দেখছে যে, অন্যদের উপস্থিতি অনিয়মিত। শ্রেণিশিক্ষক এ অবস্থায় পাঠদানের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। প্রকৃত জ্ঞান আহরণের একমাত্র অবলম্বন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ প্রাইভেট পড়া বা কোচিং সেন্টার নয়।
লেখক : সাবেক ব্যাংকার, পটুয়াখালী
বছরের পর বছর যেভাবে স্কুল-শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো এবং কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং শিক্ষার মান ও...
