অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাণ। ভোটাধিকার নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নাগরিকরা তাদের পছন্দের যোগ্যপ্রার্থীকে বেছে নেবেন এবং নিজের মূল্যবান ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রার্থীকে বিজয়ী করে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেবেন। এর জন্য প্রধান শর্ত হলো নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়া। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে। দেশের শাসনব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত করতে হলে নির্বাচনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় আরোহণ করার মানসিকতা থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। ভোগবাদী চিন্তাধারা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসে সেবামূলক প্রত্যয়বোধে উজ্জীবিত হয়ে নেতৃত্বের জায়গায় আসতে হবে। নেতৃত্ব মহৎ গুণ। তা হতে হবে জনকল্যাণমূলক। সেবার জন্যই নেতৃত্ব। কেবল ভোগের মোহে আচ্ছন্ন থাকলে মানবসেবার দিকটি কখনো বড় হয়ে ওঠে না। সুতরাং সেবাই নেতৃত্বের ধর্ম। সেবার বিপরীতে ক্ষমতা যদি মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়, যেকোনোভাবেই হোক ক্ষমতা আমার চাইÑ এ রকম লোভ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে অন্ধ করে তোলে। তখন অর্থের বিনিময়ে এবং পেশিশক্তি প্রয়োগ করে অথবা প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রতিদ্বন্দ্বী বা অন্য প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতালিপ্সুরা, যা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার পরিপন্থী। বিশ্বব্যাপী আধুনিক উন্নয়নশীল ও উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচনের সাথে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায় না। জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, রাতের অন্ধকারে ব্যালট পেপার সিল মেরে বাক্সে ভরা, টাকার বিনিময়ে ভোটার ক্রয়, ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করা, সর্বশেষ ভোট গণনায় হেরফের ও নির্বাচনী ফলাফল রদবদলসহ অসংখ্য অনিয়মে ভরা আমাদের দেশে প্রচলিত নির্বাচন। প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার পাশাপাশি সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে। ভয় ও ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য ভোটকেন্দ্র জ্বালিয়ে দেয়া, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত এমন ব্যক্তিসহ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারানোর নিদারুণ মর্মান্তিক ইতিহাস এ দেশে বিস্তর রয়েছে। এ অবস্থা শুধু ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরার মানসিকতা থেকেই সৃষ্টি। বহমান স্বার্থান্বেষী, নোংরা অপরাজনীতি এর জন্য দায়ী। কোনো দল একবার ক্ষমতায় আসতে পারলে আর যেতে চায় না। আমৃত্যু ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে রাষ্ট্র্র্র্র্র্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দলীয় প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নিরপেক্ষতা হারিয়ে দলীয়করণে জড়িয়ে পড়ে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে গণতন্ত্রের সবক ভুলে যায়। ক্ষমতা আরো দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য ভিন্নমত দমনে অধিক মনোযোগী হয়ে পড়ে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলগুলোকে রাজনৈতিক অঙ্গনে সঙ্কুচিত করে ফেলে। নির্বিচারে বিরোধী নেতাকর্মী নির্যাতন, গ্রেফতার অব্যাহত ভাবে চলতে থাকে। সময়ের পালাবদলে এটি গুম, খুন ও হত্যার মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অথচ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র্র্রে শক্তিশালী বিরোধী দল সরকারি দল তথা সরকারের আয়নাস্বরূপ। সে আয়নায় সরকার নিজের ক্ষতবিক্ষত চেহারা দেখে নিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করবেন। গঠনমূলক ও ইতিবাচক সমালোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জাতির স্বার্থে সরকারের বেপরোয়া গতির লাগাম টেনে ধরা বিরোধী দলের দায়িত্ব। এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র্রের অন্যতম শর্ত। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে এ ধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ভোগবাদে বিশ্বাসী, ত্যাগের আদর্শে নয়। আমাদের সম্মানীয় নেতারা ভোগের মধ্যে সার্থকতা খোঁজেন, তারা ত্যাগের সার্থকতা বোঝেন না। ক্ষমতার উষ্ণতায় তারা ভুলে যান ‘ংধপৎরভরপব’ নেতৃত্বের গুণাবলির মধ্যে অন্যতম। যার কারণে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সব কাজ সম্পন্ন করে যায় ক্ষমতাশীল দল।হ
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাণ। ভোটাধিকার নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নাগরিকরা তাদের পছন্দের যোগ্যপ্রার্থীকে বেছে নেবেন এবং নিজের মূল্যবান ভোট প্রদানের মাধ্যমে...
