মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হলো শিক্ষা। একটি দেশের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে শিা। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শিার বিকল্প নেই। শিাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, প্রাথমিক স্তরেই শিার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত রচিত হয়। বিশ্বে প্রাথমিক শিাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে ১৯৯০ সালে এ শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে।
দেশপ্রেম, নাগরিকতাবোধ, কর্তব্যবোধ, সৃজনশীলতা, অধ্যবসায়, সদাচার, ন্যায়-নিষ্ঠার মতো গুণ সৃষ্টি করতে প্রতিদিন সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শেখানো হয়, এমন উল্লেখযোগ্য চুয়াল্লিশটি সেøাগান হলোÑ শিার আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো। নিরর থাকব না, দেশের বোঝা হবো না। পড়ার সময় পড়ব, খেলার সময় খেলব। ধনী-গরিব বিভেদ নাই, চলো সবাই স্কুলে যাই। শিা আমার অধিকার, শিা আমার অহঙ্কার। শিাই জীবনের মূল, ঝরে পড়া বিরাট ভুল। বিদ্যালয়ে আসবে যারা, সুখী জীবন গড়বে তারা। সৎ পথে চলব, সুন্দর জীবন গড়ব। সদা সত্য কথা বলব, মোরা সুখী জীবন গড়ব। যার নেই শিা, তার নেই রা। কৃষক বলে শ্রমিক ভাই, শিা ছাড়া উপায় নাই। লেখাপড়া শিখব, দেশটাকে গড়ব। ধূমপানে বিষপান, করব না করব না। যদি চাও দেশের উন্নতি, শিা ছাড়া নাইরে গতি। দিন বদলের বইছে হাওয়া, শিা মোদের প্রথম চাওয়া। শিা শিা শিা চাই, শিা ছাড়া উপায় নাই। একীভূত শিা, হোক মোদের দীা। লেখাপড়ার বিকল্প নাই, চলো সবাই স্কুলে যাই। আমরা শিশু জাতির মূল, বিদ্যালয়ে ফোটাই ফুল। শিতি কন্যা, শতগুণে ধন্যা। নারী পুরুষ সবাই সমান, শিা দিয়ে করব প্রমাণ। শিাই শক্তি, শিাই মুক্তি। নতুন বছর নতুন দিন, নতুন বইয়ে হোক রঙিন। কনুই তুলে মারব হাঁচি, অন্যকে বাঁচাই নিজে বাঁচি। শিশুর বয়স হলে পাঁচ, ভর্তি কর বিদ্যালয়ে। শতভাগ ভর্তির হার, বাংলাদেশের অহঙ্কার। নখ কাটি চুল ছাঁটি, থাকব মোরা পরিপাটি। বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা, পরিষ্কার রাখব। বাংলাদেশ বাংলাদেশ, চিরজীবী হোক চিরজীবী হোক। এসো বোন এসো ভাই, চলো সবাই স্কুলে যাই। হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই, সুস্থ-সুন্দর মন চাই। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলব না, পরিবেশ নষ্ট করব না। সুস্থ যদি থাকতে চান, পুষ্টিকর খাবার খান। শতভাগ ভর্তির হার, জাতির জন্য অহঙ্কার। নিয়মিত নখ কাটো, রোগ জীবাণু দূরে রাখো। করব মোরা মাদক বর্জন, গড়ব মোরা সুখের জীবন। লেখাপড়া শিখব, নতুন জীবন গড়ব। শিা জাতির অধিকার, শিা জাতির অহঙ্কার। লেখাপড়া শিখে মোরা উঠব হয়ে দেশের সেরা। লেখাপড়া শিখব, সোনার বাংলা গড়ব। বিদ্যালয় আমার ঘর, রাখব সদা পরিষ্কার। লাল ফুল নীল ফুল, শিশু হলো বিদ্যালয়ের ফুল। বিদ্যালয়ের শ্রেণিক, পরিষ্কার রাখব পরিষ্কার রাখব এবং ছেলেমেয়ে বিভেদ নাই, চলো সবাই স্কুলে যাই।
সমাবেশকালীন ৯টি কর্মসূচি : প্রথমে প্রধান শিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন এবং এই সময় সবাই সোজা হয়ে থাকবে। তিনি পতাকা উত্তোলন করে এক কদম পেছনে এসে পতাকাকে অভিবাদন জানাবেন। সাথে সাথে অন্য সবাই সোজা অবস্থায় হাত তুলে অভিবাদন জানাবে। পালাক্রমে প্রত্যেক দিন একজন শিার্থী এসে কুরআন শরিফ পাঠ করবে এবং হিন্দু শিার্থী থাকলে গীতা পাঠ করবে। কুরআন তিলাওয়াতের সময় সবাই আরামে বুকে হাত দিয়ে দাঁড়াবে। তারপর শ্রেণীর অন্য একজন এসে শপথ পাঠ করাবে। শ্রেণীর একজনের আদেশের দ্বারা সমাবেশ পরিচালিত হবে। শিার্থীরা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সবাই এক সাথে জাতীয় সঙ্গীত গাইবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাষণ (প্রয়োজন বোধে) থাকতে পারে। পাঁচ মিনিটের জন্য শরীর চর্চা অনুশীলন। এমন শরীর চর্চা করানো যাবে না যাতে জামাকাপড়ে মাটি লাগার সম্ভাবনা থাকে। তারপর শারীরিক শিকের নির্দেশে সবাই ক্যাপ্টেনের তত্ত্বাবধানে সবাই সারিবদ্ধভাবে কাসে যাবে।
সমাবেশের পাঁচ প্রয়োজনীয়তা : দলীয় মনোভাব ও সমঝোতা বৃদ্ধি করে। জাতীয় চেতনা, জাতীয়তা বোধ এবং দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়। দেহ ও মনে সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ফালগুনকরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘প্রাত্যহিক সমাবেশে ছেলেমেয়েরা নীতিবাক্য শিখে থাকে। এতে ছেলেমেয়েদের অনেক উপকার হয়’। এ ব্যাপারে সাকিনা বেগম নামের একজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলেছেন, ‘প্রাথমিকের সব প্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুরা ছন্দের মাধ্যমে নীতিবাক্য শিখে। এতে শিশুদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ে’।
লেখক : সাংবাদিক
