বর্তমান সমাজের একটি বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। আগে মানুষ একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে একসময় একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলত। কিন্তু, এখন একটি মোবাইল কিনছে ফেসবুক ব্যবহার করতে। ফেসবুক মানুষকে যতটুকু দিয়েছে, তার বেশি চেয়েও কেড়ে নিচ্ছে। মানুষ যেন সময়ের কাছে ঋণী হয়ে পড়ছে এই ফেসবুকের জন্য। বিটিআরসির তথ্য মতে, গড়ে প্রত্যেক ৩০ সেকেন্ডে একটি করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। এই ফেসবুকের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে স্কুলপড়ুয়া অপ্রাপ্ত ছেলেমেয়েদের ওপর। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, ক্লাস সিক্স-সেভেনপড়ুয়া একটি ছেলে শুধু ফেসবুকে পরিচয় হওয়া কোনো মেয়ের প্রেমে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এমনকি আত্মহত্যার মতো কাজও করছে। শুধু তাই নয়; ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত বন্ধুদের ওয়াল থেকে তাদের বিলাসবহুল জীবনধারাও যেন প্রভাবিত করছে নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত প্রায় সবাইকে। তা ছাড়াও দেখা যায়, একজন বিবাহিত পুরুষ কিংবা মহিলাও তাদের নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতে ফেসবুকে সময় দিতে গিয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছেন পরকীয়ায়। তা ছাড়া গুজব, প্রপাগান্ডা, রাজনৈতিক রিউমারের মতো টিউমার বাড়ছে সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে। অন্য দিকে হয়রানি কিংবা শ্লীলতাহানির জন্য একশ্রেণীর অসৎ লোক অজ্ঞতা কিংবা ইচ্ছাবশত খুলে যাচ্ছে বিভিন্ন ছবি দিয়ে ফেক আইডি। যার ফলে মেয়েদের নানা ক্ষেত্রেই পড়তে হয় যৌন হয়রানির মুখে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আই- ২০১৮-এর ২৯ ধারায় বলা হয়েছেÑ মানহানিকর কোনো তথ্য দিলে তিন বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, ৩২ ধারায় বলা হয়েছেÑ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য-উপাত্ত, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটি অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে।’ কিন্তু এর পরও এ দেশের অনেক মানুষ আইন সম্পর্কে একইভাবে অজ্ঞ ও অসচেতন। যার ফলে অনেক মানুষ যেমন আইনের সহায়তা নিতে চান না, ঠিক একইভাবে আরেক শ্রেণী যেন সেই সুযোগকেই কাজে লাগায়।
এ ছাড়াও ফেসবুক ব্যবহার করে মানুষ তার গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করছে। মানুষ আগে অবসর কাটাতে বই পড়ত। কিন্তু এখন কাটায় ফেসবুক চালিয়ে। যার ফলে একটি সুন্দর প্রোফাইল পিকচারে লাইক-কমেন্টের আশায় একটা ছবি সুন্দর করতে ব্যয় করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এত কিছুর পরও আরেকটা ঝুঁঁকি যেন রয়েই যায়। বর্তমানে ফেসবুকে কিছু অ্যাপস রয়েছে, যা ইউজারদের খুব দ্রুতই আগ্রহী করে ফেলে। যেমনÑ আপনার ভবিষ্যত পার্টনারকে খুঁজে বের করুন, কী অপেক্ষা করছে ২০১৯-এ আপনার জন্য ইত্যাদি লোভনীয় কিছু কুইজ। এগুলো দেখতে অনেকেই ক্লিক করে এবং ইউজারদের অগোচরেই চলে যায় তাদের পারসোনাল ডাটা, মেসেজসহ আরো অনেক কিছুই। যা একটি ঝুঁঁকির কারণ হয়ে থাকে।
তাই আমাদের উচিত, এ ব্যাপারে আরো সচেতন হওয়া এবং একই সাথে খেয়াল রাখতে হবে; আমরা কি ফেসবুককেই আমাদের জীবন ভেবে সব আপলোড করে দিচ্ছি, নাকি মনে আছে ফেসবুকের বাইরেও আমাদের একটা জগৎ আছে যেটা ভার্চুয়াল লাইফ থেকেও অনেক বেশি ডিফারেন্ট।
শিক্ষার্থী : আইন বিভাগ, জেডএইচ সিকদার ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।
বর্তমান সমাজের একটি বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। আগে মানুষ একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে একসময় একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলত। কিন্তু, এখন একটি...
