সম্প্রতি ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেন কৃষকেরা। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে এবারের কোরবানির ঈদে। গত বছর এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়। এ বছর তা নেমে এসেছে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। চামড়ার বাজারে মন্দাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট চামড়া ব্যবসায়ীরা এবং বিশেষত এতিম-মিসকিন। ঈদুল আজহার দিন পশুর চামড়া বিক্রির জন্য অপেক্ষা করেছেন কোরবানিদাতারা; কিন্তু ক্রেতা মেলেনি। মিললেও প্রকৃত দাম পাননি। তাই রাগে-ক্ষোভে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন অনেক কোরবানিদাতা। এ বছর উৎপাদিত খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে ধান। সারা দেশে ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষকেরা। পানির দামে ধান বিক্রি করে মহাজনের ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে কৃষকদের। অনেকেই ঋণ পরিশোধ করতে গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। বোরো মওসুমের শুরুতে কৃষকেরা বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও গ্রামীণ সমিতি থেকে ঋণ করে চাষাবাদ করে থাকেন। মওসুম শেষে ফসল বিক্রি তারা ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু এ বছর ধানের দাম কম হওয়ায় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে পাওয়ায় খরচের টাকাও ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হয়েছে। ফলে নেমে এসেছে চরম হতাশা। এবার কৃষকেরা বিঘাপ্রতি প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করে ফলন পেয়েছেন ১৮-২০ মণ ধান। বাজারে ধানের দাম না থাকায় কৃষকদের বিঘাপ্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। ধান বিক্রি করে সার, তেল, কীটনাশকসহ শ্রমিক মজুরির দাম ওঠাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এমন অবস্থা বিরাজ করলে ধান চাষে বিমুখ হবেন সাধারণ কৃষকেরা। সরকারিভাবে প্রতি মণ ধানের বিক্রয় মূল্য এক হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭০০-৭৫০ টাকায়। ধানের ন্যায্যমূল্য পারে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে। তেমনি, চামড়া শিল্পকেও বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
zafornatorenews@gmail.com
সম্প্রতি ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেন কৃষকেরা। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে এবারের কোরবানির ঈদে। গত বছর...
