বিশ্বের দিকে দিকে মুসলমানদের কান্নার রোল আকাশে-বাতাশে ধ্বনিত হচ্ছে। ওই কান্নার ধ্বনি কর্ণে প্রবেশ করলে হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু উপায় কী ওই কান্না থামানোর? মুসলমানরা কি এভাবেই মার খেতে খেতে নিঃশেষ হয়ে যাবে?
ঘুরে দাঁড়াতে হবে তাদেরকে। ফিরে আসতে হবে আল্লাহর দেয়া বিধান কুরআন ও বিশ্ব নবী মোহাম্মদ মোস্তফা সা:-এর রেখে যাওয়া হাদিস বা সুন্নাহর কাছে। এই দুই মহাসম্পদকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে আঁকড়িয়ে ধরলে এবং সে অনুযায়ী জীবন, সংসার, সমাজ ও রাষ্ট্র চালালে আর কাঁদতে হবে না। মানব জাতির মুক্তির দূত মহানবী হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা সা:-এর জন্ম মুহূর্তে আরব বিশ্ব ছিল ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত। সেই চরম অসভ্য সমাজকে আঁধার থেকে তুলে আলোর সন্ধান দেয়া ছিল খুবই দুরূহ। তাই তো আল্লাহর নবী করে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর সে কাজে তার প্রধান সহায়ক ছিল ঐক্য। যুবক শ্রেণীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন তিনি হিলফুল ফুজুল নামক সংগঠনের মাধ্যমে। আজ আমাদের আবার সেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোর কদমে এগিয়ে যেতে হবে। ইরাক বনাম ইঙ্গ-মার্কিন যুদ্ধের সময় লিখেছি ‘নব্য ইয়াজিদ সীমার’ কাব্য ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে।
এ কবিতাটিতে বলতে চেয়েছি যুক্তরাষ্ট্র একে একে সব মুসলিম রাষ্ট্রকে তাদের নিয়ন্ত্রিত করে ফেলবে। তারা শুরু করেছিল ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের নামে ফিলিস্তিনিদের ওপর অত্যাচার। দীর্ঘ দিন ধরে ওই অত্যাচার চালাতে তারা ইসরাইলকে মহা শক্তিশালী করে মিসর, সিরিয়াসহ ওই অঞ্চলে তারা নেপথ্যে থেকে ইসরাইলকে দিয়ে প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ধ্বংস করে চলছে। চেষ্টা করছে ইরানের ওপর হামলা চালানোর। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দেই উপরিউক্ত কবিতার মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছি। কবিতায় মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি ঐক্যের মাধ্যমে একজনকে নেতা নির্বাচন করে সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংসের জন্য তৈরি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। একে একে তারা সবাইকেই ধ্বংস করবে। তাই এই মুহূর্তে মুসলিম বিশ্বের সব রাষ্ট্রপ্রধানকে সতর্ক এবং একতাবদ্ধ হতে হবে।
২০০৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ব্রিটেনের (ব্রিটিশ) প্রধানমন্ত্রী ছিলেন টনি ব্লেয়ার। এই নেতারা মিথ্যার ওপর ভর করে ইরাকে আক্রমণ করে সেখানকার সম্পদ লুটে নিয়েছেন। ইরাকে নার্ভ গ্যাস মজুদের মিথ্যা কথা বলে তারা ইরাককে ধ্বংস করেছেন। বিন লাদেন আমেরিকার তৈরি করা একজন জঙ্গি। তাকে দিয়ে আল কায়দা নামে একটি জঙ্গি দল গঠন করে মুসলিম রাষ্ট্রে তার দলকে আমেরিকা ঢুকিয়ে দিয়ে আবার ওই আলকায়দাকে ধ্বংস করার জন্য সৈন্য পাঠিয়েছে মুসলিম রাষ্ট্রে। এভাবে আফগানিস্তানকে ধ্বংস করেছে। এভাবেই মার্কিনিরা তাদের মুসলিম বৈরিতা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরব থেকে তারা প্রচুর আর্থিক সহযোগিতা নিচ্ছে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে। এটাও তাদের লুটপাটের একটি কৌশল হিসেবেই কাজ করছে। আরবদের বন্ধুত্বের ভাব দেখিয়ে সেখানে বসে ইরানে আক্রমণ চালানোর ফন্দি আঁটছে। তাই সব মুসলিম রাষ্ট্রের সরকার প্রধানদের একটি কবিতার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছিÑ ওরা, একজনকে কোলে নিয়ে আরেকজনকে মারবে, পরে কোলের মানুষটিকেও ধ্বংস করবে। সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। ওদের থেকে মুসলিম রাষ্ট্রের অর্থবিত্ত কম নেই। ইচ্ছে করলেই মুসলমান রাষ্ট্র পরাশক্তি হতে পারে একজন আরেকজনকে সাহায্য করলে। এ ব্যাপারে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা ও আইসিকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে এবং আরো সক্রিয় ও গতিশীল করে তুলতে হবে ওআইসির গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে। যোগ করতে হবে তাদের নিজস্ব শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনের কথা। বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্র থেকে সৈন্য সংগ্রহ করে ও আইসির বিশাল এক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠন করতে হবে। যেকোনো মুসলিম রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে ওই বাহিনী ওই রাষ্ট্রের সেনাদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। ওআইসির বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার থাকতে হবে। সেখানে পারমাণবিক অস্রও থাকবে। রাসূল পাক সা: বলে গেছেন, ‘মুসলমানদের হাতে থাকতে হবে যুগের সর্বাধুনিক শক্তিশালী সমরাস্ত্র।’ সাথে সাথে ওআইসিকে অর্থনৈতিকভাবে মজবুত করতে হবে। কারো চোখ রাঙানিতে অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত থাকা ঠিক হবে না।
মুসলিম রাষ্ট্রের ক্ষমতাধরদের নতজানু নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। স্বজাতির সাথে বেশি মেলামেশা করতে হবে। কাশ্মিরের এক অংশকে ভারতের দখলে নেয়াকে সমর্থন করে এটা দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলা ত্যাগ করতে হবে। সব কিছুর জন্যই আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে। মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী কথা মুসলিম রাষ্ট্রের নেতাদের বলা ঠিক হবে না। হ
লেখক : কবি ও গীতিকার