ঘুষ, দুর্নীতি, ক্যাসিনো, জিম্মি করা, চাঁদাবাজি, মাদক, টর্চারিং সেল, নারী নির্যাতন, ভূমি ও নদী দখল, মিথ্যা মামলা, ভীতি প্রদর্শন, প্রভৃতি জঘন্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধে ক্ষমতাসীন দলীয় এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার ও আটক করা বা জেলে পাঠানো হয়েছে। দেশবাসী এদের অপরাধের ধরন আর তালিকা দেখে চমকে উঠেছেন। সরকার এ অভিযান অব্যাহত থাকার কথা বলেছে। ‘কেউ অপরাধ করলেই ধরা হবে’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তিক্ত-অভিজ্ঞতার এমন অঙ্গীকার বা ঘোষণায় দেশবাসী তেমন বিশ্বাস রাখতে পারছে না। কারণ নেতারা এমন হলে কর্মীরা বা দল কেমন হবে, বলাই বাহুল্য। দেশের মাথাপিছু আয় কোথায় বস্তাবন্দী হয়, তা বোঝা গেল। জনগণ সে আয়ের সুফল পায় না এবং তাদের দুঃখ-কষ্টে দিন কাটাতে হয়। অপরাধ ও অপরাধী মাত্র দু-এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে চলে এসেছে। এত দিন কেন এটাকে প্রশ্রয় দেয়া হলো, এখন কেনইবা ধরা হচ্ছে, তা রহস্যজনক। দেশব্যাপী এমন অপরাধীর তুলনায় আটককৃতরা ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। তাই কয়েকজনকে ধরলেই সবার দায়মুক্তি হবে না। অভিযানটি খুব প্রয়োজনীয় যদি ঠিকমতো সম্পন্ন করা হয়। অপরাধীর জন্ম হয়েছে অঙ্গ রাজনীতির ছত্রছায়ায়। সরকার যদি এদের স্থায়ীভাবে দমন না করে, এ অভিযান রাজনৈতিক মতলব হাসিলের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে জনমনে ধারণা হবে। ২০০১ সালের কেয়ারটেকার সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। সরকারি সহায়তা ছাড়া সন্ত্রাস সম্ভব হয় না। ক্ষমতাসীন দলের সজ্জনরা সুযোগ না পেলেও কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অবৈধ সুবিধাভোগী নেতাকর্মীরা দেশবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। জনগণ সুবিচার পান না বলে আল্লাহর কাছে এর বিচার দিয়ে রেখেছেন। এসব নেতাকর্মীই এলাকার ‘রাজা’। তারা রাজাবাদশার মতো প্রতাপে শাসন চালায়। চাঁদাবাজি করে অবাধে, কাউকে সম্মান করা বা আপন-পর ভাবার সুযোগ নেই। বখাটেদের আয়ের উৎস কী? অফিসে আড্ডা দেয়া, টিজ করা, বাইক নিয়ে পাড়া কাঁপানো, ‘সালিস’ করা, এসব কি বিপুল আয়ের উৎস? আয়ের আইনি উৎস আছে কি না দেখা দরকার। অবৈধ টাকা, অদক্ষ ও অসৎ নেতাদের বিষাক্ত কার্যকলাপ আমরা দেখলাম, এখন আল্লাহভীরু প্রকৃত সৎ ও যোগ্য নেতা দরকার। দেশে একটি শ্রেণীকে অন্যায়ভাবে বিরাট সুযোগ দিয়ে বিরাট বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে ‘জিরো টলারেন্স’ কথাটি সরকারী ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য হাস্যকরভাবে অর্থহীন হয়ে পড়েছে। বিএনপি সংবিধান থেকে ৭ নম্বর ধারা বিলুপ্ত করায় অনেক কথা তাদের শুনতে হয়েছে। কেন এ ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ৭ ধারা না করেই এমন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এটা তারা বিলুপ্ত করলে কী অবস্থা হতো, আল্লাহই জানেন। তা ছাড়া পিটিয়ে, কুপিয়ে মানুষ মারা যেন বৈধ এবং নিছক খেলা। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে নির্বাচিতদের কাছ থেকেও আজ নীতি কথা শুনতে হচ্ছে। আসলে রাজনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। মিথ্যা সব পাপের ‘মা’। সে মিথ্যাই রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এ দেশে। নিরপরাধীকে জঘন্য অপরাধী বানানো; জঘন্য অপরাধীকে নিরপরাধী বানানো, নির্দোষ কাউকে মিথ্যা অস্ত্র দিয়ে আটক করে দাগি আসামি হিসেবে দেখানোÑ এভাবে একে একে মিথ্যা আর দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। এবার গ্রেফতারকৃতরা তাদের অবৈধ আয় দলের জন্য খরচের কথাই বলেছে। এ সরকার লাগাতার এক যুগ মেয়াদ পার করলেও বদঅভ্যাসবশত জঘন্য অপরাধে ধৃতদের ‘বিএনপি-জামায়াত, ছাত্রদল যুবদলের লোক’ বলে চালিয়ে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা আজো করছে। এটাও বিরাট দুর্নীতি। এসব অর্বাচীন ব্যক্তি নিজের দলকে বড় বিপদে ফেলছে। ইংরেজদের নীতি ছিল, জনগণের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে, তাদের দুর্বল করে নিজেদের শাসন করা। এ সরকারের নীতি হলো, অপরাধ যেই করুক, বিরোধীদের আটক করে রাজনীতির মাঠ খালি করে দেশ শাসন করো। তবে ইহকালে ‘মজা’ পেলেও পরকালে এর পরিণাম ভোগ করতেই হবে। অনেকে ভুলবশত মনে করেন, নেতা যদি অবৈধ আয় না করেন, আমাদের দিবেন কোত্থেকে? ধরা না পড়লে চরম দুর্নীতিবাজ এবং অবৈধ টাকার কুমিরও ফুলের মতো পবিত্র হয়ে যান, তাই ইহকালে সব বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। প্রকৃত অপরাধীরা যেন রক্ষা পেয়ে না যায়, এ জন্য সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হ