বিশ্বব্যাপী একটি প্রবণতা লক্ষণীয়Ñ তাহলো, ঝুঁঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় সাংবাদিকদের। বিভিন্ন ধরনের হুমকি, মামলা-হামলার শিকার হতে হয় সংবাদকর্মীদের। তবে ঝুঁঁকি থাকলেও আর ১০টা পেশার চেয়ে সাংবাদিকতায় বেশি সম্মান এখনো বিদ্যমান। সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ বা আয়না বলা হয়। তবে ‘হলুদ সাংবাদিক’ আমাদের দেশে কিন্তু কম নয়। তারা প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মানহানি করছেন।
সাংবাদিকতা পেশা একটা চ্যালেঞ্জ। যারা ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরের বাইরে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত তাদের মফস্বল সাংবাদিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছেÑ এভাবে সাংবাদিকতার শ্রেণী বিভাজন কতটা যুক্তিযুক্ত? তবু আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত এভাবে সাংবাদিকতাকে বিভাজিত করার প্রবণতা রয়েছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিক যারা তাদের বলা হয় মফস্বল সাংবাদিক। পেশায় টিকে থাকতে তাদের করতে হয় কঠোর পরিশ্রম। একটা সংবাদের বিষয়ে লিখতে হলে ছুটতে হয় একেবারে তৃণমূলে। বহু ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় মফস্বল সাংবাদিকদের। দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ তৈরি করতে গেলে হুমকি বা হামলা হয়। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন বা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সংবাদ দেয়া হলে অবস্থা অনেক সময় হয় ভয়ঙ্কর। মফস্বল এলাকায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। যেমন, কোনো সংবাদ নিয়ে প্রশাসনের সাথে বিরোধ থাকলে তুচ্ছ ঘটনায় ফাঁসানো হয় সাংবাদিককে। এর জ্বলন্ত প্রমাণ হিসেবে সবার সামনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে কুড়িগ্রামে বাংলা ট্রিবিউনের জেলা সংবাদদাতা আরিফুল ইসলামের চরম নিগ্রহ।
মফস্বল সাংবাদিকদের সারা দিন ছুটতে হয় সংবাদের পেছনে। উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, থানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন সরকারি দফতর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটতে হয় তাদের। অথচ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সব সময় টানাপড়েনের মধ্যেই চলতে হয়। এভাবেই চলছে মফস্বল সাংবাদিকতা। কিন্তু এভাবে চললে হবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন থাকা উচিত এবং এই আইনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া, সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একত্রে থাকলে শক্তি পাওয়া যায় এবং প্রতিপক্ষ ভীতচিত্ত থাকে।
একতা না থাকায় দেশে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন বেড়ে চলেছে। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনা আজো উন্মোচিত হয়নি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা তো আছেই। এর কোনো বিচার হচ্ছে না। এমতাবস্থায় সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। সাংবাদিক নেতাদের উচিত সরকারের কাছে সময়ের দাবি সময়ে উপস্থাপন করা। মফস্বল সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার। যেন যুদ্ধ করেই টিকে থাকতে হচ্ছে মফস্বল সাংবাদিকদের।
লেখক : সংবাদকর্মী