প্রতি বছর প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নে বিভোর থাকে। এর মধ্যে মাত্র ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে সফল হয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। এ শিক্ষার্থীদের মধ্যেই প্রথম সারির র্যাংকিংয়ে থাকা বেশির ভাগ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর প্রথম চয়েজ থাকে ফার্মাসি বিভাগ। আবার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেয়া শিক্ষার্থীদেরও অন্য বিভাগের চেয়ে অনেক মোটা অঙ্কের টিউশন ফি দেয়ার পাশাপাশি মেধা দিয়ে জায়গা করে নিতে হয় ফার্মাসি বিভাগে।
তাহলে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় ফার্মাসি বিভাগই কেন? কারণ ফার্মেসি স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের একটি অন্যতম শাখা। ফার্মাসিতে চার কিংবা পাঁচ বছর মেয়াদি কোর্স করা গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের বলা হয় ওষুধবিজ্ঞানী। শুধু ওষুধ বিশেষজ্ঞই নন, ফার্মাসিস্টদের কাজের মধ্যে রয়েছে ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা প্রেসক্রিপশন পুনঃপরীক্ষণ, ওষুধ কোন রোগের জন্য, কী কী উপাদান কী পরিমাণে মিশিয়ে ওষুধ উৎপাদন ও সংরক্ষণ, ওষুধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য বিতরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার ও প্রভাব নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসাগত প্রয়োগ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও রোগীকে পরামর্শ দেয়া।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ফার্মাসিস্টদের ৫৫ শতাংশ কমিউনিটি ফার্মাসি, ৩০ শতাংশ হসপিটাল ফার্মাসি, ৫ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং, ৫ শতাংশ সরকারি সংস্থায় এবং ৫ শতাংশ অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে ফার্মাসিস্টদের কাজের পরিধি অত্যন্ত সীমিত। কমিউনিটি কিংবা হাসপাতালে ফার্মাসিস্টদের কাজের ক্ষেত্র এখনো তৈরি হয়ে ওঠেনি। ফলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও চলমান করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতেও হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এমতাবস্থায় দেশের সব মহল থেকে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগের জোর দাবি উঠেছে।
সম্প্রতি একটি টকশোতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ফার্মাসিস্টরা ফার্মাসিতে কাজ করে এবং তারা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের মতোই। মন্ত্রীর ফার্মাসিস্টদের প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গিতে ফুঁঁসে উঠেছে ফার্মাসি বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থী, নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট ও দেশের সচেতন জনসাধারণ। প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের দেশের অন্যতম মেধাবী সন্তান গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের মেধা, প্রজ্ঞা ও সক্ষমতাকে গভীরভাবে অনুধাবন করে দ্রুত হাসপাতাল ও প্রশাসনিক কাজে নিয়োগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। তা নিশ্চিত করতে পারলেই হাতের নাগালে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা পাবে দেশের জনসাধারণ। নতুন সূর্য উদিত হবে স্বাস্থ্যখাতে। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ফার্মাসি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়