গত ১৫ নভেম্বরের নয়া দিগন্ত পত্রিকায় দিনদুপুরে জীবননগর শাখা সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির খবর পড়ে দেশের মানুষ হকচকিত। মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়েছে। বেড়েছে আর্থিক সঙ্কট বেকারত্ব। কিন্তু চোর-ডাকাত ও ছিনতাইকারীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বেশি বেহাল অবস্থার শিকার হচ্ছে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যাংক-বীমা ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। মাত্র কিছু দিন হয় অফিস আদালতের কর্মচাঞ্চল্য ফুটে উঠেছে। এদিকে, শহর, বন্দর ও গ্রামগঞ্জে ধর্ষণ, চুরি ডাকাতি ছিনতাই প্রভৃতি এতই বেড়েছে যে, সাধারণ মানুষ অত্যন্ত শঙ্কিত। সন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি শাখা রয়েছে সোনালী ব্যাংকের। দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যংক। সোনালী ব্যাংকের শাখা ১৩০২টি এবং কৃষি ব্যাংকের শাখা ১০৩৯টি। কৃষি ব্যাংকের বেশির ভাগ শাখাই মফস্বল এলাকায়। সোনালী ব্যাংকের শাখাও গ্রামগঞ্জে অনেক। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো সবসময়ই থাকে। প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর সোনালী ব্যাংক জীবননগর শাখায় দিনদুপুরে ডাকাতি সংঘটিত হয়। অস্ত্রের মুখে ৯ লাখ টাকা লুট করে নেয় ডাকাতরা।
ঘটনাস্থলে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক উপস্থিত হয়ে ব্যাংকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) নেই জেনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উপস্থিত পুলিশ সুপার বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখায় সিসি ক্যামেরা নেই, এটা কোনোক্রমেই মেনে নেয়া যায় না।’ বিষয়টি মানতে আমরাও অপারগ। ওই ব্যাংক ডাকাতির দুঃসংবাদে দেশের সব ব্যাংকের গ্রাহকরাও স্তম্ভিত। সব ব্যাংকই গ্রাহকনির্ভর। আমানতের ওপর ভর করে চলে যেকোনো ব্যাংক। শাখাগুলো সিসি ক্যামেরা সরবরাহের প্রতি ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের একটা গুরুত্ববহ নজর থাকা বাঞ্ছনীয়।
যেকোনো দুর্ঘটনা শনাক্তের প্রধান উপায় এই সিসি ক্যামেরা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কৃষি ব্যাংকের শতকরা ৮২ ভাগ শাখায় এবং সোনালী ব্যাংকের বেশির ভাগ শাখায় সিসি ক্যামেরা অনুপস্থিত। জানা গেছে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ব্যাংক শাখাগুলোতে যেমন : গলাচিপা, বাউফল, কলাপাড়া, দশমিনা এবং চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, খুলনা প্রভৃতি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শাখাগুলোয় আজো সিসি ক্যামেরা নেই।
এখন সব গ্রামেই বিদ্যুৎ বিদ্যমান। ইউনিয়ন পর্যায়ের ব্যাংক শাখাগুলোতেও সিসি ক্যামেরা থাকা জরুরি। সবপর্যায়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকে) সিসি ক্যামেরা সরবরাহ করা হোক, এটাই সুশীলসমাজসহ গ্রাহক ও বিশিষ্টজনদের জোরালো অভিমত।
লেখক : সাবেক ব্যাংকার; গলাচিপা, পটুয়াখালী
গত ১৫ নভেম্বরের নয়া দিগন্ত পত্রিকায় দিনদুপুরে জীবননগর শাখা সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির খবর পড়ে দেশের মানুষ হকচকিত। মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও...
