বর্তমানে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়, অধিদফতরসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদ শূন্য আছে তিন লাখ ৬৯ হাজার ৪৫১টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীতে (নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) শূন্য ৫৫ হাজার ৩৮৯টি, দ্বিতীয় শ্রেণীতে (দশম গ্রেড) শূন্য ৪৯ হাজার ১৪২টি, তৃতীয় শ্রেণীতে (১১ থেকে ১৬তম গ্রেড) এক লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৯টি ও চতুর্থ শ্রেণীতে (শূন্য ১৭ থেকে ২০তম গ্রেড) ৮৭ হাজার ১৪১টি পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ও সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সরকারি অফিসে শূন্য পদে লোক নিয়োগ চলমান একটি প্রক্রিয়া। শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজার ২০৪ জন কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্তপর্যায়ে রয়েছে। এর পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ চলমান। ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ও রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজনে নবসৃষ্ট সহকারী সার্জনের স্থায়ী ক্যাডার পদে দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে এক হাজার ৯০৩ জনকে নিয়োগসংক্রান্ত লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ৪১তম বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজার ১৬৬ জন এবং ৪২তম (বিশেষ) বিসিএসের মাধ্যমেও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত হয়।
বিভিন্ন বিভাগ এবং এর অধীনস্থ সংস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ১০-১২ গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণী) শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হয়। ১৩-২০ গ্রেডের (পূর্বতন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী) পদে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, দফতর, সংস্থার নিয়োগবিধি অনুযায়ী সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, সংস্থা জনবল নিয়োগ করে চলেছে।
বর্তমান সরকারের আমলে সরকারি কর্মকমিশন (বিপিএসসি) বিসিএস ক্যাডার পদসহ দ্বিতীয় ও তদূর্ধ্ব শ্রেণীতে মোট ৭৪ হাজার ৮৭৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। সংসদ সদস্য আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৮ থেকে ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় ৩৫ হাজার ৬০৩ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে চার হাজার ২৫ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর (১০, ১১, ১২তম গ্রেড) পদে পাঁচ হাজার ৭৫৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নবম, তদূর্ধ্ব এবং দশম গ্রেডের বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে ৩২ হাজার ৪৯৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষিতের হার বাড়লেও ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ সর্বক্ষেত্রে সেভাবে কর্মসংস্থান না বাড়ার কারণে দেশে বেকারত্বের হার বহুগুণে বেড়ে যায়, তার ওপর করোনার আক্রমণও এর অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।
মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সফল সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে লেজুড়বৃত্তি বা ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে দেশীয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বহুগুণ বাড়িয়ে উন্নয়ন ও বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে ১৭ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।
বর্তমানে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়, অধিদফতরসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদ শূন্য আছে তিন লাখ ৬৯ হাজার ৪৫১টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীতে (নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) শূন্য ৫৫...
