বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে পুরো বিশ্ব যখন অসহায়ের মতো জবুথবু হয়ে কাতরাচ্ছিল, তখন আল্লাহর পাঠানো করোনা নামক জীবাণু সৈন্যের কাছে ধরাশায়ী পৃথিবীর সমগ্র মানবতা। এ ভাইরাস সাধারণ কোনো ভাইরাস নয়। এটি মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি কড়া সতর্কবার্তা। বিশ্বব্যাপী আল্লাহর সত্য কিতাব বিরোধী কর্মকাণ্ডে যখন সয়লাব হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর জনপদ, শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের মর্যাদা যখন ভূলুণ্ঠিত, অনাচার আর পাপাচারের গড্ডলিকা প্রবাহে যখন ভাসমান বৈশ্বিক প্রতি ইঞ্চি মাটি, তখনই হার না মানা ভাইরাসের কবলে পড়ে পুরো জাতি, পুরো বিশ্ব।
শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো হার মেনেছে এই অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে। করোনা আমাদের শিখিয়েছে আল্লাহর সত্য বিধান কুরআনের দিকে ফিরে যেতে, প্রকৃত মানবতাবাদী হওয়ার জয়গান শিখিয়েছে এই করোনা। দীর্ঘ দেড় বছর এই করোনাকালীন সময়ে বিশ্বের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। আর এতে মহাক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পৃথিবীর কোটি কোটি শিক্ষার্থী। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান চালু রেখেছিল অনেকে। এ দেড়টি বছর শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ যেমন পর্যুদস্ত হয়েছে, তেমনি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী। কিছু কিছু অনলাইন ক্লাস চালু থাকলেও তা অ্যাকাডেমিক কারিকুলামের ক্ষেত্রে খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না।
দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের পর এ দেশে ঢিলেঢালা লকডাউন চলেছে কয়েক দফা। স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা না মেনে নগর ও গ্রামকেন্দ্রিক মানুষদের চালচলন রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকে। প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারিকেও পাত্তা দেয়নি সাধারণ মানুষ। কিন্তু এর পরও লকডাউনের কিছুটা হলেও প্রভাব পড়েছে; যার ফলে সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে আর এতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খোলা শুরু হয়েছে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানের বন্ধ দুয়ার। হাসিখুশি আর কোলাহলে মেতে উঠেছে অনেক দিনের মুখিয়ে থাকা শিশু কিশোর ও ছাত্রছাত্রী। আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোতে। হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে অভিভাবকমণ্ডলী।
দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাফতরিক কর্মকাণ্ড যেমন শুরু হয়েছে, তেমনি পাঠদানও শুরু হয়েছে শ্রেণীগুলোর আনুপাতিক হারে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর চাপটা একটু বেশি হবে কারণ আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তে দীর্ঘ দিনের জমানো ক্ষোভ কিছুটা হলেও কমেছে বলে মনে হয় ভুক্তভোগীদের। এই দীর্ঘ সময় শিক্ষাঙ্গনে অনুপস্থিতি ছাত্রছাত্রীদের অনেককেই অসৎ পথে ঠেলে দিয়েছে। ঢিলেঢালা সময় পার করা, অযত্নে অবহেলায় সময়গুলোকে অযথা নষ্ট করা তাদের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশকে করেছে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো ভয়ঙ্কর জীবাণু সৈন্য করোনা যে আবার হানা দেবে না এটির কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? আল্লাহর বিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় পৃথিবীর মানুষকে এভাবেই মহাশক্তিমান সতর্কবার্তা দিয়ে থাকেন। তিনি আমাদেরকে বারবার বার্তা দিয়ে থাকেন কিন্তু এর পরও আমরা তার সেই সত্য বিধানকে অনুসরণ না করে মিথ্যার আশ্রয়কে বারবার খুঁজে বেড়াই। আমরা যেন মরীচিকার পেছনে হাতড়াই, ধূসর বালুকারাশির পেছনে ছুটে চলি বারবার। ক্ষণস্থায়ী জীবনকে পুঁজি করে গড়ে তুলি পৃথিবীতে প্রাসাদের পর প্রাসাদ, যেন কারুনের সম্পদ। হতভাগ্য মানবজাতি এখনো রয়ে গেছি সেই তিমিরেই, যে তিমিরে শত বছর ধরে পার করছি সীমাহীন তেপান্তর।
আমার দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ায় যেন এক নতুন প্রাণের জোয়ার উঠেছে দেশময়। হতাশার কবল থেকে যেন উঠে এসেছে তাবত শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এই জোয়ার যেন থামার নয়। সূর্যের প্রখর আলোতে এই জোয়ারের জলরাশি দেদীপ্যমান। আমরা খুঁজে পাই এখানেই এক সুন্দরের ঠিকানা যেটি নিঃশেষ হওয়ার নয়। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ভবিষ্যৎ পূর্ণ মানুষ হওয়ার স্বপ্ন। মানুষ তো নয়, একজন পরিপূর্ণ মুমিন মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার এ স্বপ্নের অভিলাষ যেন ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃশেষ না হয়, সে চেষ্টাটুকুই থাকতে হবে আমাদের মধ্যে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, আখেরাতের কঠিন মুহূর্তের নাজাতের উছিলা যেন থাকে এই জাগতিক বিদ্যায়। সেই প্রচেষ্টা যেন মুখ্য হয়ে থাকে এ অবেলায়। আমরা বড় শিক্ষিত মূর্খ মানুষ চাই না। আমরা চাই খোদাভীরু কুরআনপ্রেমী শিক্ষিত সমাজ। আর এতেই আমার আল্লাহ তায়ালা পরম দয়াবান হবেন তাদের ওপর; যাদের হাতে রয়েছে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। আসুন এ আবেদনটুকু মিলিয়ে দিই আকাশের তারায় তারায়, কঠিন বাস্তবতার নিষিদ্ধ দেয়ালে দেয়ালে।
লেখক : সভাপতি, রাউজান ক্লাব, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি)
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে পুরো বিশ্ব যখন অসহায়ের মতো জবুথবু হয়ে কাতরাচ্ছিল, তখন আল্লাহর পাঠানো করোনা নামক জীবাণু সৈন্যের কাছে ধরাশায়ী পৃথিবীর সমগ্র মানবতা। এ...
