গর্ভধারণজনিত জটিলতার কারণে, প্রসবকালে এবং প্রসব-পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রাণহানি ঘটলে তা মাতৃমৃত্যু। এক লাখ গর্ভধারণে নারী মৃত্যুর সংখ্যাকে মাতৃমৃত্যুর হার হিসাবে ধরা হয়। সরকার বলছে, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার ১৬৫। অর্থাৎ এক লাখ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে বর্তমানে ১৬৫ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে।
প্রসূতির মৃত্যু এখনো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বড় একটি সমস্যা। আর এই মৃত্যুর প্রধান একটি কারণ রক্তক্ষরণ। তার সাথে বর্তমানে যোগ হয়েছে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসা। অতীতে প্রসূতি মায়েরা যথোপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে এবং প্রসবকালীন নানা জটিলতায় প্রাণ হারাতেন। অদক্ষ ধাত্রীদের দ্বারা তখন প্রসব করানো হতো। প্রসবকালীন নানা জটিলতার সুস্থ সমাধান দিতে তারা ব্যর্থ ছিলেন। ফলে প্রসবকালীন মৃত্যু তখন নিয়মিত ঘটনা ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অজপাড়াগাঁয়েও এখন উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে গেছে কিন্তু তাই বলে এখনো বন্ধ হচ্ছে না প্রসূতি মৃত্যু। বর্তমানে চিকিৎসকদের অদক্ষতা এবং ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছেন হাজারো প্রসূতি মা। ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার হাত থেকে রেহাই পায় না সদ্য জন্ম নেয়া শিশুও, ডাক্তারের অদক্ষতার কারণে কখনো কখনো মা এবং সন্তান উভয়েই প্রাণ হারায়। ডাক্তারদের অবহেলা, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তাড়াহুড়া, অদক্ষতা প্রভৃতি এসব মৃত্যুর কারণ।
হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের হাতে ‘ভুল’ চিকিৎসায় বা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু নতুন কোনো ঘটনা নয়। শুধু বাংলাদেশে নয়, এই ঘটনা অনেক দেশেই ঘটছে, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং এশিয়ার বড় বড় হাসপাতালে পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতাল হোক বা প্রাইভেট ক্লিনিক কোথাও রোগীরা এমন ঘটনার শিকার হননি বলা যাচ্ছে না। তবে ইদানীং প্রাইভেট ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটার কথা বেশি শোনা যাচ্ছে। আবার সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটলে রোগীর আত্মীয়-স্বজনের প্রতিবাদ হচ্ছে আর চিকিৎসকরাও পাল্টা প্রতিবাদ করছেন। ফলে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে। মানুষ বুঝতে পারছে না, তারা কার পক্ষ নেবে। অসুখ হলে তো ডাক্তারের কাছেই যেতে হবে, আবার ডাক্তারকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দিলে সব ডাক্তার একত্র হয়ে যখন প্রতিবাদ করেন তখন রোগীরা আরো অসহায় হয়ে পড়েন।
পাঠকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশনের জের ধরে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছেন প্রসূতি মায়েরা। এর ফলে রোগীর স্বজন এবং ডাক্তারদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের বিরোধ যা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় মাঝে মধ্যে। বাংলাদেশে হাসপাতালে অবহেলার অভিযোগ হলেই লোকজন ডাক্তার বা চিকিৎসার সাথে জড়িত অন্যদের ওপর চড়াও হয়। কারণ মানুষ জানে না, তারা বিচারের জন্য কোথায় যাবে। এটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলো নিজেরাই ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে জানাতে পারে।
চিকিৎসায় অবহেলাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ, একক এবং স্বতন্ত্র আইনের প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুভব করছেন। চিকিৎসাশাস্ত্র একটি টেকনিক্যাল বিষয় এবং চিকিৎসা প্রদানে আসলেই কোনো ভুল বা অবহেলা হয়েছে কি না সেটি নির্ধারণ করাও একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের অন্যায় আক্রমণ ও সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি উভয়ের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলা প্রতিরোধ এবং রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের আইনি সুরক্ষা দ্রুত নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
গর্ভধারণজনিত জটিলতার কারণে, প্রসবকালে এবং প্রসব-পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রাণহানি ঘটলে তা মাতৃমৃত্যু। এক লাখ গর্ভধারণে নারী মৃত্যুর সংখ্যাকে মাতৃমৃত্যুর হার হিসাবে ধরা হয়। সরকার...
