হিজাব পরার কারণে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের কর্নাটকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকতে দেয়া হয়নি ৫৮ ছাত্রীকে। তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে কর্নাটকে হাইকোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব বা গেরুয়া স্কার্ফ পরে ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। বলা হয়, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব বা গেরুয়া স্কার্ফ পরে কেউ ক্লাসে উপস্থিত হতে পারবে না। ভারতে নারী অবমাননা করার ঘটনা খুব বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চরম দক্ষিণপন্থীদের উত্থান এবং প্রযুক্তির প্রসার ভারতের তরুণ হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বিদ্বেষের বিষ ছড়ানোর কাজে এখন সাহস জোগাচ্ছে। কিছু দিন আগে মুসলিম নারীদের অপমান করতে অ্যাপে বেশ কিছু মুসলিম নারীর ছবি শেয়ার করে এদের ‘নিলামে’ বিক্রি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে সামাজিক মাধ্যমে মেয়েদের হয়রানি ও হেনস্তা ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার উগ্র হিন্দুত্ববাদকে রাষ্ট্রপরিচালনার নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ হিন্দু ধর্মের এই বাণী এখন ভারত থেকে নির্বাসিত। ধর্মনিরপেক্ষতা কাগুজে নীতিতে পরিণত হয়ে সংবিধানে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদ ক্রমেই সমগ্র ভারতবর্ষকে গ্রাস করেছে। তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়েছে উগ্রবাদ, জন্ম নিয়েছে ভয়ঙ্কর মুসলিমবিদ্বেষ। বিজেপি সরকারের উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ভারতীয় সমাজকে বিভক্ত, বিষাক্ত, রক্তাক্ত করছে। কল্পকাহিনীর ওপর ভিত্তি করে ভারতের শাসকদলের হঠাৎ করে আমদানি করা বৈধ নাগরিকত্বের ধারণা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি-এনআরসি ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন-সিএএ ভারতের নাগরিক ও সমাজের বন্ধনে নজিরবিহীন ভাঙন সৃষ্টি করেছে। হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ঘৃণা, আর ঘৃণা থেকে দাঙ্গা সহিংসতা।
এর মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্র সভ্যতা লজ্জায় পড়েছে। ভারতের একটি বড় অংশে প্রায় ৩০০ বছর রাজত্ব করেছিল মুঘলরা। মুঘল শাসনামল ভারতবর্ষের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অথচ ভারতের মহারাষ্ট্রের স্কুলের সিলেবাস থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে মুঘল আমলের ইতিহাস। সেখানে নিয়ে আসা হয়েছে হিন্দু শাসক ছত্রপতি শিবাজির প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের ইতিহাস। ইতিহাস পাঠ্যপুস্তক কমিটি বলছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই।
কেবল স্কুলের সিলেবাস নয়, মুসলিমবিদ্বেষের প্রভাব পড়েছে ভারতের আদালতেও। অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে নয়; বরং হিন্দু ধর্মের কিছু মানুষের বিশ্বাসকে মান্যতা দিয়ে বাবরি মসজিদ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের রায় দিয়েছেন। রায়টি ছিল অসঙ্গতিপূর্ণ। আদালত নিজেই স্বীকার করেছেন, মসজিদের নিচে যে কাঠামোর সন্ধান মিলেছিল, তা কোনো মন্দিরের কাঠামো ছিল, এমনটা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) রিপোর্টে স্পষ্ট হয়নি। আদালত বলেছেন, ‘তবে ওই স্থানকে যে হিন্দুরা ভগবান রামের জন্মস্থান হিসেবে বিশ্বাস করেন, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। আদালতের আরেকটি যুক্তি ছিল, ‘বিতর্কিত জমির ওপর রামলালার অধিকার স্বীকার করে নেয়াটা আইনশৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বহাল রাখার প্রশ্নের সাথে সম্পৃক্ত।’ এই রায়ের তত্ত্ব অনুযায়ী লোকবিশ্বাসকে মান্যতা দিতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রাখার স্বার্থে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী গোষ্ঠীর পক্ষে রায় দিতে হবে, তাতে প্রামাণ্য নথিপত্র থাকুক আর না থাকুক। এই বিপজ্জনক তত্ত্বের প্রয়োগ শুরু হয়েছে ভারতে।
সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরাবাঁকিতে যোগী আদিত্যনাথের সরকার ১০০ বছরের একটি প্রাচীন একটি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসন দাবি করেছে, ওই মসজিদের কাঠামোটি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং তারা এলাহাবাদের হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে সেই স্থাপনাটি ভেঙেছে। কিন্তু মসজিদের খাদেম রমজান আলি বলেছেন, তাদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেয়া হয়নি। আইনজীবী জাফরিয়াব জিলানির মতে, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় এই মসজিদ ভেঙে আদালতের অবমাননা করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ওই মসজিদ নিয়ে কখনো কোনো বিতর্ক ছিল না এবং সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ধূলিসাৎ করা হয়েছে। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মৌলানা খালিদ সাইফল্লøাহ রেহমানি আরো বলেছেন, ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিমরা সেখানে নামাজ পড়ে আসছেন-ি যে বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। বিবিসির প্রতিবেদন মসজিদের পাশের হিন্দু প্রতিবেশী বেনী শর্মার উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেøখ করেছে, ‘সেই ছোটবেলা থেকে এখানে কখনো নামাজ পড়া বন্ধ হয়েছে দেখিনি। ২০১৪ সালে বরাবাঁকিতে মসজিদের একটি দরগাহ থেকেই নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বাবরি মসজিদও বরাবাঁকির গরিব নেওয়াজ মসজিদ ছাড়াও আর দু’টি মসজিদ ভাঙার হুমকিতে পড়েছে। এই মসজিদ দু’টি ভাঙতে সুপ্রিম কোর্টের বিপজ্জনক তত্ত্বের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। মসজিদ দু’টি হলো বারানসির জ্ঞানবাপী মসজিদ বা আলমগিরি মসজিদ ও আগ্রা জামে মসজিদ বা জাহানারা মসজিদ। সম্প্রতি ভারতের বারানসির একটি আদালত নির্দেশ দিয়েছে, জ্ঞানবাপী মসজিদ কোনো মন্দির ভেঙে গড়া হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে প্রতœতাত্ত্বিক জরিপ চালাতে হবে। এ ছাড়া আগ্রায় অবস্থিত জাহানারা মসজিদের নিচে হিন্দু দেবতা কৃষ্ণের মূর্তি আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে একই ধরনের জরিপ চালানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে। মসজিদটি আগ্রা জামে মসজিদ নামে বেশি পরিচিত। মসজিদ ভাঙার টার্গেটের পাশাপাশি ভারতীয় মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে আরেকটি ভয়ঙ্কর বিদ্বেষ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অতি সম্প্রতি অনেক মুসলিম নারীকে অবমাননা করতে দেখা গেছে। তাদের কাছে গরুর মূল্য থাকলেও মুসলমানদের মূল্য নেই। মুসলিমরা শান্তিপ্রিয়, অন্যায়কে অন্যায় বলে প্রতিবাদ করতে জানে।
আনন্দবাজার পত্রিকা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক শেরডন পোলকের মতামত ছাপিয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘মুসলমানরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করলে বর্তমানে ভারতে একজনও হিন্দু থাকত না। এতে প্রমাণিত হয়, মুসলমানরা কখনোই অত্যাচারী ছিল না।’
এ দিকে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী সহযোগী সংস্থা-ওআইসি। উত্তরাখন্ডের হরিদ্বারে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা মুসলিম গণহত্যার আহ্বান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম নারীদের হয়রানি এবং কর্নাটকে হিজাব পরিধানে বাধাদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তারা জাতিসঙ্ঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কয়েক বছর আগে ভারতের সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ভারতের মুসলমানদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা জানার জন্য। কমিটির সভাপতি ছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচার। এই কমিটি যে বিষয় অনুসন্ধান চালিয়েছিল তা হলো-ি মুসলমানরা কী ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের বার্ষিক আয় কত, শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন, সরকারি সাহায্য, ব্যাংকের ঋণ কেমন পান। কেমন এলাকায় এরা থাকেন। তাদের জলবিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটের অবস্থা কেমন, সম্পত্তি বা জমিজমা, অর্থ-সম্পদের পরিমাণ কত? প্রায় দেড় বছর সমীক্ষা চালানোর পর কমিটি ৪৫০ পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ রিপোর্ট তৈরি করে। এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর সারা ভারতে আলোচনার ঝড় ওঠে। ওই রিপোর্টের অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো-ি
২০০১ সালে জনগণনা অনুযায়ী ভারতে লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ১০২ কোটি ৮৬ লাখ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ হিন্দু, ১৩.৪ শতাংশ মুসলমান। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন ইত্যাদি। কয়েক বছর আগে বেসরকারি একটি সমীক্ষার মতে, ভারতে ১৮-২০ কোটি মুসলমান। আমেরিকার পত্রিকার ভাষ্যমতে, ভারতে ২৫ শতাংশ মুসলমান। ভারত নাকি মুসলমানদের সঠিক তথ্য জানায় না। শিক্ষার দিক থেকে মুসলমানরা দু’ধরনের অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এক দিকে শিক্ষার স্তর নিম্ন, শিক্ষার গুণগত মান নিম্নœ। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের এক হাজার মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে কোনো বিদ্যালয় নেই। সারা দেশে মুসলিমপ্রধান গ্রামগুলোর এক-তৃতীয়াংশে কোনো বিদ্যালয় নেই। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় তো একেবারে নেই। শহরাঞ্চলে মুসলিমদের অন্তত ৬০ শতাংশ স্কুলের দরজায় পা দেয়ার সৌভাগ্য হয়নি। সারা দেশে ১০০ জন স্নাতকের মধ্যে মুসলমান ৬.৩, তপসিলি ৮.২ অন্যরা ৮৫.৫। টেকনিক্যাল স্নাতকের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবস্থা আরো খারাপ। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের সব ক’টি শাখা মিলিয়ে ছাত্রছাত্রীর মধ্য থেকে মাত্র ১.৩ শতাংশ মুসলমান। এর কারণ শুধু সরকারি অমনোযোগিতা, স্কুল-কলেজের অভাব। অনেকে আবার বলেছেন, মুসলিম মেয়েদের মাদরাসায় পাঠান, স্কুলে নয়। তাই তারা শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। আর মুসলিম শিশুদের ৪ শতাংশ মাদরাসায় যায়। স্বাধীনতা অর্জনের সময় চাকরিতে মুসলমানদের অবস্থা ভালো ছিল। চাকরিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল ৩৪ শতাংশ। বর্তমানে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ শতাংশ মাত্র। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, স্বাধীনতার পর থেকে মুসলমানদের শুধু শোষণ করা হয়েছে।
মুসলমানদের আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮০ সালে কৃষ্ণ কমিশন নিয়োগ করেন। এই কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী মুসলমানরা শুধু বেকার নয়, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ তাদের নাম নথিভুক্ত করতেও অস্বীকার করে। এমনকি রাজ্য স্তরের চাকরিতে ও মুসলিমদের হার মাত্র ৬.০১ শতাংশ। বিচার বিভাগ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব না থাকার মত। অবাক করার ব্যাপার হলো, ভারতের ৪০ শতাংশ মুসলমানপ্রধান গ্রামে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই।
এই রিপোর্ট প্রকাশের ৩২ বছর পরও মুসলিমদের অবস্থা একই রয়ে গেছে। কোনো উন্নতি হয়নি। সরকার কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। ভারতে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে ৩২ শতাংশ মানুষ। কিন্তু একটি নিদিষ্ট ধর্মের মানুষ ৪৯.৯ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এরা মুসলমান। সারা দেশের প্রায় ২৭ শতাংশ দরিদ্রদের সরকারিভাবে অতিরিক্ত রেশন, কম দামে খাদ্যদ্রব্য, বিনা খরচে বিদ্যুৎ দেয়া হয়। কিন্তু দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মুসলিমদের এই সুবিধা দেয়া হয় না। গ্রামীণ মুসলিমদের ৬০ শতাংশ ভূমিহীন। ভিটেমাটি ছাড়া চাষবাস করার কোনো জমি নেই। অথচ ১৯৫০ সালের সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী জমিদারি প্রথা বিলোপ করা হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি রেখে বাকি জমি গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে হবে। এই আইন করে কার্যকর করা হয়েছিল। তাহলে মুসলমানরা ভূমিহীন কেন? মুসলমানদের কি ওই জমি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল?
দেখা যাচ্ছে, তপসিলি জাতিগোষ্ঠী আর মুসলমানরা ছাড়া ভারতের আর সবাই ভালো আছে, দারিদ্র্যের ছোবল থেকে বেঁচে আছে।
লেখক : সাংবাদিক