প্রতিবারই রমজান এলে সব মুসলিমের মন নরম হয়। যেকোনো ভালো কাজ করতে আগ্রহ জাগে। খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে মনে ইচ্ছা বা আকাক্সক্ষা জাগে। অন্য মাসে বা সারা বছর নানাবিধ পারিপার্শি¦কতায় তা হয়ে ওঠে না। রমজানে যাতে ভালো পথে থাকতে ও চলতে পারি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সেই নিবেদন করছি।
হে প্রভু! আপনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আপনার প্রতি সেজন্য চির কৃতজ্ঞ থাকতে পারে সেই মানসিকতা সৃষ্টি করে দিন। আসন্ন রমজানে আপনার কাছে নিবেদন, গত এক বছর আমরা যত ভুল-ত্রুটি করেছি মেহেরবানি করে ক্ষমা করে দিন। আমরা সারা বিশ্বের মুসলমানরা আজ নানা মুসিবতে নিপতিত। সেখান থেকে আপনি আমাদের উদ্ধার করুন। সূরা নিসার ৭৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে আমাদের রব, জালেমদের এ জনপদ থেকে আপনি আমাদের বের করে নিন; অতপর আপনি আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী পাঠান’। পৃথিবীর দিকে দিকে আজ মুসলমানরা নির্যাতিত। আপনি আমাদের প্রতি সদয় হোন, আমাদের দোয়া কবুল করুন!
পাশাপাশি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, রজমানের সময় ইফতারের আগে যে দোয়া করা হয়, সবাই বড় আশা নিয়ে তার সাথে শামিল হতে চান। তাই আগে রেকর্ড করা দোয়া না বাজিয়ে যেকোনো আমলদার আলেমকে দিয়ে সরাসরি ইফতারের আগে সশরীরে যেন তা করা হয়। আরেকটি অনুরোধ হলো, রমজানে আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ছোট-বড় সবাই রোজা রাখতে আগ্রহী হন। এ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামে যানজটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী রোজা রাখতে ভয় পাবে। শিক্ষার্থীদের আনা-নেয়াকারী অভিভাবকরাও রোজা রাখতে কষ্ট অনুভব করে রোজা ছেড়ে দিতে পারেন। সময়টা গরমের মওসুম। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অভিভাবকদের বসার বা দাঁড়ানোর মতো সামান্য জায়গাটুকুও নেই; যেখানে তারা অপেক্ষা করবেন। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিরাট একটা অংশ আছে যাদের ওপর রোজা ফরজ। সুতরাং ভরা গরমের মওসুমে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা চরম সমস্যায় পড়বেন। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করে এ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা সঙ্গত কি না, সেটা ভাবার বিষয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
