বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আখাউড়ায় অবস্থিত স্থলবন্দর, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও পুরনো। বর্তমানে ভবন দু’টি বসবাস ও কাজের জন্য একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোর এতই বেহাল দশা যে, ড্যাম্প হয়ে দিন দিন ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে। স্যাঁতস্যাঁতে এই ভবনগুলো বারবার সংস্কারে হাত না দিয়ে সরকার নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রায় তিন বছর আগে কাজ শুরু হলেও ভারতীয় বিএসএফের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে আছে। দফায় দফায় বাধার মুখে ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণে প্রায় তিন বছর কাজ বন্ধ। দেখার কেউ নেই। অথচ বিএসএফ ও বিজিবি উভয় দেশের মহাপরিচালক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে এর সমাধান করা তেমন কোনো ব্যাপারই না। প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা করে সমস্যা থাকলে সমাধান করা যেতে পারে। উল্লেøখ্য, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে এই স্থাপনা নির্মাণকাজে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী শুরু থেকে বাধা দিচ্ছে। অথচ তারা জিরো পয়েন্টের দেয়াল ঘেঁষে এ ধরনের ভবণ নির্মাণকাজ করেছে তখন তারা কোনো বাধাই মানেনি। আর আমরা যখন তাদের মতো নতুন ভবন অতি প্রয়োজনে নির্মাণের কাজ শুরু করি তখন একের পর এক বাধা দেয়া হয়, যা বোধগম্য নয়। ২০১৬ সালে আখাউড়া স্থলবন্দরে ছয়তলা ভবণ নির্মাণে প্রথম বিএসএফের বাধার মুখে পড়ে। পরে যাই হোক, আলোচনা সাপেক্ষে শুধু দোতলা করার অনুমতি দিলেও এখন পুরো কাজেই বাধা দেয়া হচ্ছে। দোতলা ভবন নির্মাণের শর্ত বাংলাদেশ মেনে নিলেও দীর্ঘদিন হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখনো সে কাজের অনুমতি দেয়নি। কি আশ্চর্য আমাদের কাজে বাধা দিলেও তারা; কিন্তু জিরো পয়েন্টে তাদের আধুনিক ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার নির্মাণকাজ বাংলাদেশের বাধা অমান্য করেই শেষ করেছে। এখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। বাংলাদেশকে এ নির্মাণকাজ করতে দিচ্ছে না বিএসএফ। এদিকে ভবন উঁচু করতে আপত্তি থাকায় পাশে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করতেও ভারতীয় বাধার মুখে পড়ে বাংলাদেশ। সময় সময় জিরো পয়েন্ট ক্রস করে এসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এ কাজে বাধা দেয়। পরে বিজিবি জিরো পয়েন্টে তাদের নিত্যনতুন ভবন নির্মাণে আপত্তি জানালে তা গায়ের জোরে উপেক্ষা করা হচ্ছে। সর্বশেষে বাধা দেয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া পুলিশ কর্তৃক আগরতলাস্থ ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ভবন নির্মাণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই দেয়াল ঘেঁষেই ভারতীয়রা আরো অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করছে। এমনকি সেখানে বিএসএফের নতুন করে ব্যারাক ও সম্মেলন কক্ষ তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় এ কাজে বিজিবির আপত্তিতে বিএসএফ কর্ণপাত করে না। সময় সময় বিজিবি ও বিএসএফ আলোচনায় বসলেও কোনো লাভ হয় না। দিল্লি থেকে অনুমোদন না আসা পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দরের সব রকম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য বিএসএফ আখাউড়ার বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। বিষয়টি আমাদের পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত আছে কি না জানি না। তবে ঘনঘন বাধার মুখে বাংলাদেশের নির্মাণকাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতাকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যায় না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে কেন এ সমস্যা নিরসনের বিষয়টি তোলা হলো না তা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। আশা করি, উভয় দেশের বন্ধুত্বের কথা চিন্তা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আখাউড়া স্থলবন্দরে আধুনিক ভবণ নির্মাণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।
লেখক : সমাজসেবক