প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও আইন শিক্ষক, মানবাধিকার সংগ্রামী, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী, ব্যারিস্টার সলিমুল হক খান মিল্কির আজ মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। মরহুম ব্যারিস্টার মিল্কি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আইনজীবী ও শিক্ষক হিসেবেও তার সফলতা অনন্য। তিনবার চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে আইনজীবীদের সমস্যা দূরীকরণে অবদান রাখেন। তিনি পাকিস্তান বার কাউন্সিল এবং পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন।
১৯২৬ সালে ৩১ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার বাইটুটি গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ইংল্যাল্ড থেকে বার এট ল’ সনদ অর্জন শেষে তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকায় আইন ব্যবসায় শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট রাজনীতিক তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের যোগাযোগমন্ত্রী সোলতান আহামদের কন্যাকে বিয়ে করেন। সেই থেকে চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং চট্টগ্রাম বারে প্র্যাকটিস শুরু করেন। আমৃত্যু ছিলেন এখানেই। তিনি মাদারবাড়ী হাফিজিয়া এতিমখানার দীর্ঘদিন সভাপতি ও জে এম সেন ইনস্টিটিউটের সভাপতি ছিলেন।

বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সভাপতির দায়িত্ব ছাড়াও তিনি বহু জাতীয়, আঞ্চলিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মজলুম জননেতা মরহুম আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর ও ভাবশিষ্য। তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপের ১৯৫৮ সাল থেকে চট্টগ্রাম জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি চট্টগ্রাম থেকে হিন্দু নারী-পুরুষদের শরণার্থী হিসেবে গোপনে ভারত পাঠানোর দায়িত্ব পালন করেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শে এবং আগ্রাসনবিরোধী চেতনায় চট্টগ্রামে নতুন রাজনৈতিক ধারা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যাসন্তানের জনক। ব্যারিস্টার মিল্কি দলমত নির্বিশেষে সবার শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। সত্যভাষণে ছিলেন অগ্রগামী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, সাহসী ও নিষ্ঠাবান পেশাজীবী ছিলেন। দেওয়ানি, ফৌজদারি উভয় আইনেই ছিলেন সমান পারদর্শী।
রাজধানীকেন্দ্রিক জীবন নির্বাহ না করায় এ বিরাট প্রতিভার তেমন প্রচার ও সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। উচ্চবিত্ত হয়েও তিনি মাঠে, ময়দানে, পল্লীগ্রামে ছুটে গিয়ে দুঃখী মানুষের কথা বলতেন। জাতীয় নেতৃত্বে অবক্ষয়ের এ দুঃসময়ে তিনি এক উজ্জ্বল প্রদীপ। দুস্থ, অসহায় বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষায় তিনি প্রেরণার উৎস হয়ে চিরজাগরূক থাকবেন।