বাংলার পুলিশকে একসময় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাথে তুলনা করা হতো। এখন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে আমাদের পুলিশ বাহিনী। পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। তারপরও এ বাহিনীর দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক, যুব বা নারী দিবসের মতো বাংলাদেশে পুলিশের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য বছরের একটি দিন বা দিবসকে ‘জাতীয় পুলিশ দিবস’ হিসেবে প্রবর্তনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাই। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ^মানের স্মার্ট পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ হবে জনগণের, শোষণের নয়।
তবে এখনো আমাদের দেশের বেশির ভাগ থানা-ফাঁড়ির পুলিশ মাদক, গাঁজা, ইয়াবা ইত্যাদি দিয়ে সাধারণ মানুষ, তরুণ সমাজ ও ক্ষুদ্র দোকানদারদের ফাঁসিয়ে টাকা পয়সা আদায় করছে আবার যারা সত্যিকার অর্থে মাদকাসক্ত বা অপরাধী তাদের ধরে আবার টাকা-পয়সার বিনিময়ে ছেড়েও দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইজি সাহেব জানেন কি? মাননীয় পুলিশ প্রধানকে দেশের বিভিন্ন থানা পুলিশের দৈনন্দিন অপরাধ-অপকর্ম ও ঘটনা ঘটে থাকে তা সচরাচর জানানো হয় কি না, তা ঠিক জানি না। এই সেদিন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে সূত্রাপুর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকগুলো ঘটনা সচরাচর পুরান ঢাকার থানা ও পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে বেশি ঘটে এবং ঢাকার বাইরের জেলার থানাগুলোতে এ ধরনের অপরাধের মাত্রা চরমে। থানা-পুলিশ যে সব সোর্সের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে সেসব সোর্স মাদকে আসক্ত এবং থানার লিস্টেড আসামি। এক শ্রেণীর পুলিশ বা ডিবির আচরণ দেখলে দেশের জনগণ হতবাক। অস্ত্র ও পুলিশের পোশাক পরিধান করে তাদের যে চাঁদাবাজি, জুলুম-নির্যাতন এবং ফাঁড়ি-থানার পুলিশরা প্রচুর মিথ্যা কথা বলে, প্রতারণা, দাপট, হুমকি-ধমকি, জবরদখল, হয়রানির মতো ঘটনা সব কিছুই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অবগত। তবে সৎ, দক্ষ, ভদ্র ও নিষ্ঠাবান ক্যাডার পুলিশ অফিসাররা এ ধরনের ঘটনার জন্য লজ্জিত ও ব্যথিত। তাদের করার কিছুই থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে তারাও অসহায়। এই করোনার সময় পুলিশের ভূমিকা চমৎকার। এক শ্রেণীর বেপরোয়া পুলিশের কর্মকাণ্ডে পুলিশের সুনাম ও অর্জন আজ ক্ষতিগ্রস্ত। কিছুসংখ্যক বিপথগামী পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আজ নতুন কিছু নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আবার পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণত নাগরিক হিসেবে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া দুষ্কর; বরং সময় সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযোগকারীকে ডেকে নিয়ে স্বাক্ষর রেখে অভিযোগ নিষ্পত্তি করেন বলেই আজকাল পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না। দেশে কতজন সাধারণ মানুষ ক্ষমতাধর? কিছুসংখ্যক পুলিশের অবৈধ অন্যায়, অবিচার, হয়রানি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মতো সৎ সাহস থাকলেও ঝামেলা ও স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন বা সোর্সদ্বারা হুমকি ধমকি প্রদানের কারণে মানুষ এখন আর পুলিশের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পারতপক্ষে কোনো অভিযোগ না করলেও সমাজে কিন্তু দিন দিন ক্ষুব্ধতা বাড়ছে। থানার ওসিরা এখন আর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বা পুলিশ সুপারের কাছে জবাবদিহিতা করার প্রয়োজন মনে করে না। সর্বত্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও তদবিরের জোরে পুলিশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির ওপর আঘাত করা হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পুলিশ ছাড়া জনগণ নয়, পুলিশ জনগণের বন্ধু। কিন্তু সে বন্ধু কোনোভাবেই টাকা-পয়সার বিনিময়ে নয়। গোটা দেশের পুলিশ খারাপ নয়, শুধুমাত্র পুলিশের একটি ক্ষুদ্র অংশ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের জন্য সরকার ও পুলিশের সব ভালো অর্জন ও সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। এ ক্ষেত্রে থানা-পুলিশের মুভমেন্ট বা তাদের চলাফেরার ওপর পুলিশের এসপি, ডিসি, এডিসির সার্বক্ষণিক তদারকি জোরদার করতে হবে। সত্যি কথা, এখনো থানাগুলোতে জিডি করতে গেলে প্রাথমিকভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকে। এটার তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী আমি স্বয়ং নিজেই। ডিসি, এসপিদের থেকে থানার ওসিদের দাপট, হুমকি ও দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। থানায় থানায় ভদ্র এবং ভালো ব্যবহারকারী ও সুদর্শন ওসিদের পোস্টিং দিলে ভালো হয়। তাদেরকে দক্ষ ও গুণগত মানসম্মত পুলিশ কর্মকর্তা হতে হবে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো আছে। বিপদে পুলিশকে কাছে পেয়ে মানুষ সন্তুষ্ট। যেমন ৯৯৯-এর মাধ্যমে জনগণ পুলিশের যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়ে খুশি। থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির ওপর নজর বাড়ানো উচিত। আশা করি পুলিশের মধ্য থেকে সততা ও নিষ্ঠাবান বন্ধু ভাই-পুলিশদের জনগণের সামনে নিয়ে আসতে সহযোগিতা করবেন, এ আশাই করছি।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী
Email: unescoclubbd@yahoo.com
বাংলার পুলিশকে একসময় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাথে তুলনা করা হতো। এখন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে আমাদের পুলিশ বাহিনী। পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। তারপরও...
