সঞ্জয় ব্যানার্জী দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজীরহাট লঞ্চঘাট টার্মিনালের সংযোগ জেটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে নদীতে পড়ে আছে। সংস্কার বা পুননির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করছেন শত শত যাত্রী। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের দুর্ভোগ নিতান্তই চোখে পড়ার মতো।
সরেজমিনে দেখা যায়, দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজীরহাট লঞ্চঘাটের টার্মিনালের সাথে সংযোগকারী জেটিটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে আছে। ফলে টার্মিনালে সরাসরি লঞ্চ ভেড়ানোর সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে নদীর তীরে খোলা ও অনিরাপদ স্থানে লঞ্চ নোঙর করা হয়। যাত্রীদের হাঁটু থেকে কোমরসমান কাদাপানি পেরিয়ে লঞ্চে উঠতে হয়। জোয়ারে কোনোভাবে তীরে লঞ্চ ভেড়ানো গেলেও ভাটার সময় তীর থেকে লঞ্চের দূরত্ব বেড়ে যায়। সরু কাঠের সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন অনেকেই, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্র এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ভোলা, চরফ্যাসন, মনপুরা ও চরাঞ্চলের সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। পণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এ ঘাটের ওপর নির্ভরশীল মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ঢাকাগামী কয়েকজন যাত্রী বলেন, রাত ও ভোরে জোয়ার-ভাটার মধ্যে কাদাপানি পার হয়ে লঞ্চে ওঠা করতে হয়। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত নতুন জেটি নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এমভি পূবালী-৬ লঞ্চের চালক মনির হোসেন বলেন, টার্মিনালের বাইরে লঞ্চ ভেড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাতে হচ্ছে। জেটিটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
হাজীরহাট লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো: সাওফাত হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাটের ভাঙা জেটির কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বার বার জানানো হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. জাকী শাহরিয়ার বলেন, নদীভাঙনের কারণে জেটির নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এটি ভেঙে পড়েছে। নতুন জেটি নির্মাণের বিষয়টি প্রকৌশল শাখাকে জানানো হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আপাতত পন্টুনের দক্ষিণ পাশে লঞ্চ নোঙরের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, হাজীরহাটসহ বাঁশবাড়িয়া ও আউলিয়াপুর পন্টুন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।