সিরাজগঞ্জের কাঠেরপুল থেকে রায়গঞ্জের ধানগড়া পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কের পাঁচটি বেইলি ব্রিজ এখন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ এসব সেতু নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বর্তমানে ১৩টি বেইলি ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে কাঠেরপুল থেকে রায়গঞ্জের ধানগড়া পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কেই রয়েছে পাঁচটি বেইলি ব্রিজ। ১৯৮৮ সালে নির্মিত এসব অস্থায়ী সেতুর কোনো কোনো পাটাতলে ফাটল এবং কোথাও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জোড়াতালি দিয়ে যান চলাচল সচল রাখা হলেও এখনো সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, ভারী যানবাহন সেতুতে উঠলে কম্পন অনুভূত হয়। সরু সেতু দিয়ে একসাথে বিপরীতমুখী যানবাহন চলাচলের সময়ও বাড়ে ঝুঁকি। পাটাতলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন থাকায় চালকদের অত্যন্ত সতর্ক হয়ে সেতু পার হতে হয়। দ্রুত এসব বেইলি ব্রিজের পরিবর্তে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্রাকচালক রাসেল মিয়া ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, পুরোনো ও জোড়াতালির বেইলি ব্রিজ পার হওয়ার সময় গাড়ির গতি কমিয়ে দিতে হয়। পাটাতলের অবস্থা ভালো না থাকায় ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচলে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন কী ঘটে, সেই শঙ্কা থেকেই যায়।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সবুজ আলী বলেন, ‘একটি ভারী যানবাহন সেতুতে উঠলে অনেক সময় অন্য যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হয়। পাটাতল ফাটা ও ভাঙা থাকায় চালকেরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন। তাই দ্রুত এসব বেইলি ব্রিজ অপসারণ করে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

বাসচালক সোহাগ ও রাজ্জাক বলেন, পুরোনো ও ভাঙাচোরা বেইলি ব্রিজগুলো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। সেতুর ওপর গাড়ির ব্রেক কষলেও অনেক সময় দ্রুত থামানো যায় না। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই এসব বেইলি ব্রিজ অপসারণ করে দ্রুত নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘কাঠেরপুল থেকে রায়গঞ্জের ধানগড়া সড়কের বেইলি ব্রিজগুলো পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এগুলো সম্প্রসারণ ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বেইলি ব্রিজগুলো সরিয়ে সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে।’