ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দুই প্রার্থীর একজন ওবায়দুল্লাহ মাসুদ দলীয় সিদ্ধান্তে তার নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

তিনি রোববার জেলা নির্বাচনী অফিসে গিয়ে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, আমি ছাত্রজীবনের শুরু থেকে বিএনপির পতাকাতলে অবস্থান নিয়েছি, এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্যুত হইনি। এখন দলীয় প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিনকে বিজয়ী করার জন্য আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেব।

উল্লেখ্য, এই আসনে ছয়জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। উপনির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির দুই প্রার্থী ছাড়া আরো চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। পাঁচজন প্রার্থী আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন।

বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণের পর ২২ আগস্ট ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

১০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। ২৭ সেপ্টেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন। আগামী ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপর প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা, চলবে ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রার্থিতা পদ প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এখন শুধু মির্জা ফয়সাল আমিন আছেন। এছাড়াও বিভিন্ন দলের আরো চার প্রার্থী রয়েছেন। ৭ অক্টোবর  প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ শেষে ৮ অক্টোবর মার্কা বরাদ্দ হবে। সেদিন থেকেই প্রার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন।