মিথ্যা তথ্য দিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত সেজে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা ও বিগত ১৬ বছরে এলাকার কয়েকশ’ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, জায়গা দখলসহ এলাকাছাড়া করার প্রতিবাদে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ‘হাতকাটা’ জামালের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
গতকাল বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়ির আমবাগান এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বেলছড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মো: সোলায়মান, সমাজ কমিটির সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নুরুন্নবী জিহাদ, বাজার চৌধুরী কামাল উদ্দীন, বেলছড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: আমির হেসেন, ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় বিগত ১৬ বছরে হাতকাটা জামাল মিয়া আব্দুর রহমান জামাল নাম ধারন করে মুক্তিযোদ্ধা সেজে এলাকার শত শত মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি, বাড়িঘর-জায়গা জমি দখল করেছে। তার মেয়ের হত্যাকারী বড় মেয়ের জামাই আদালতে জবানবন্দী দেয়া সত্ত্বেও এলাকার লোকজনের নামে হত্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। ৫ আগস্টেও সে এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের হুমকি ধমকি দেয়। অথচ পরিবর্তীতে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করছে।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত সেজে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা হাতকাটা জামালের নতুন চক্রান্ত বলে দাবি করেন বক্তারা।
এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসী বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা দেখিয়ে বলেন এ তালিকায় কম্পিউটার কম্পোজ করে লিখা আ: রহমান মিয়া নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। সেখানে হাতকাটা জামাল তার নাম হাতে লিখে মুক্তিযোদ্ধা সাজেন। তারা হাতকাটা জামালের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা গুচ্ছগ্রাম রেশন কার্ড দেখিয়ে জামাল উদ্দিন ও পিতা ফয়েজ উদ্দিন নিশ্চিত করেন। জামালের প্রতিবন্ধি পরিচয়পত্র দেখিয়ে তার নাম ও বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধা সাময়িক সনদ ও গুচ্ছগ্রাম রেশন কার্ডের সাথে অমিল রয়েছে নিশ্চিত করেন।
এ সময় বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বঞ্চিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানকে তার প্রাপ্য প্রকৃত সুবিধা ও স্বীকৃতি প্রদান করে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা জামালকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে এলাকাবাসীকে তার অবর্ণনীয় অত্যাচার থেকে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানান।