লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ও হাজিরহাট ইউনিয়নের পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উপজেলার ভুলুয়া নদী, নদীর শাখা খালগুলোর মধ্যে স্থাপিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করতে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন এলাকাবাসী। ভুলুয়া নদী ও শাখা খালের চরজাঙ্গালিয়া তুলাতুলি খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্টে এসব অবৈধ বাঁধ ও স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য একটি রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ানের নেতৃত্বে একটি টিম, স্থানীয় চরকাদিরা ইউনিয়ন জামায়াত, বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীসহ শতাধিক এলাকাবাসী স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন।
গত বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরঠিকা এলাকার ভুলুয়া নদী ও তার শাখা খালগুলো উদ্ধারের জন্য ওইসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অভিযানে এলাকাবাসী এ সময় বিভিন্ন স্থানে নৌকা নিয়ে এবং পানি সাঁতরিয়ে মাছ ধরার জন্য দেয়া বাঁধগুলো কেটে অপসারণ করে পানি চলাচল নিশ্চিত করে। এতে বন্যাকবলিত এলাকা কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ও হাজিরহাট ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণের পথ আংশিক হলেও সুগম করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও পরে বন্যার পানিতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ দুই মাস ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন। ধীর গতিতে পানি কমলেও কাটছে না মানুষের দুর্ভোগ। এখনও অধিকাংশ মানুষ তাদের বাড়িঘরে হাঁটু পর্যন্ত পানিতে বন্দী রয়েছেন। ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মাটির চুলায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অনেক মানুষ শুকনো খাবার খেয়েই জীবন যাপন করে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নদী ও খাল-বিল পরিষ্কার ও অবৈধ বাঁধগুলো কেটে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে এ অঞ্চলের পানি প্রবাহ মোটামুটি নিশ্চিত হবে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, ভুলুয়া নদীর পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে রিটের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহায়তার প্রয়োজন ছিল।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দের সহায়তায় চরকাদিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন খালে গড়ে উঠা অবৈধ বাঁধ ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হয়।
চরকাদিরা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন শাহেদ হাওলাদার ও জামায়াত নেতা ডা: মিজানুর রহমান পৃথক বক্তব্যে বলেন, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।