সরকার পরিবর্তনের পর পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম হ্রাস পেলেও ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে উখিয়ার কোটবাজার ও পালংখালীতে। সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পালংখালী ইউনিয়নের ব্যস্ততম এলাকায় গণপরিবহন থেকে কথিত সমিতির নামে এখনো ব্যাপক চাঁদাবাজি চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোটবাজার থেকে একজন সিএনজি চালক দাঁড়িয়ে তার গাড়িতে মরিচ্যার একজন যাত্রী উঠানো মাত্রই গাড়ির সামনে এস ১০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে নিচ্ছেন একপ্রকার জোর করেই। সিএনজি চালক সরওয়ার জানান, কোটবাজার থেকে মরিচ্যা পর্যন্ত লোকাল একজন যাত্রী ওঠালে ১০টাকা সমিতির নাম বলে জোরপূর্বক নিয়ে নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় ক্ষমতা এবং পেশী শক্তির দাপটে ইউপি সদস্য ও দলীয় প্রভাবে তাদের অনুসারীরা মিলে অবৈধভাবে এই চাঁদা তোলা হয়। এটা যেন সিন্ডিকেটের এক রাজত্ব।
পালংখালী বাজার হয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের গ্রামীণ সড়কে চলাচল করা তিন শতাধিক টমটম মিনি টমটম এই সিন্ডিকেটের চাঁদার উৎস। তা ছাড়া উখিয়া কোটবাজার থেকে মরিচ্যা ও কক্সবাজারে ছেড়ে যাওয়া সিএনজি চালকদের কাছ থেকে সমিতির নাম ব্যবহার করে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। যাত্রী উঠানামার স্ট্যান্ড থেকে কথিত সমিতির লাইনম্যানরা সিরিয়াল দেয়ার নাম করে পরিবহন চালকদের কাছ থেকে ২০-৩০ টাকা করে চাঁদা তুলছে।
এ ছাড়াও সমিতির সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার নাম করে নেয়া হয় জনপ্রতি দুই হাজার টাকা। পালংখালী ও কোটবাজারে লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজরা প্রকাশ্যে এই চাঁদা আদায় করছেন। লাইনম্যানদের কাছে চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, সমিতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তারা এই চাঁদা আদায় করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পালংখালী স্টেশন টমটম ও মিনি টমটম মালিক ও শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে কথিত এই সমিতির সভাপতি পদে আছেন ৭ নং ওয়ার্ডের বিতর্কিত ইউপি সদস্য। এ ব্যাপারে জানতে তাদের অফিসে গেলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে উখিয়া সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়া, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল পরিবহন সমিতিগুলো।
সরকার পতনের পর পরই অনেক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেছেন। এ সুযোগে অনেকেই আবার বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম ব্যবহার করে মাঠে নেমেছেন। বিএনপি নেতা সালাম সিকদার বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেয় না। ক্ষমতার পালা-বদলে বিএনপির নাম ব্যবহার করে সুযোগ সন্ধানীরা সুবিধা নেয়ার জন্য চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে বিএনপির ওই নেতা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি পরিবহন সেক্টরসহ বিভিন্ন খাতে যারা এখনো চাঁদাবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হোক। বৈষম্যবিরোধী একাধিক ছাত্র বলেন, আমরা যখন রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করি তখন ওইসব চাঁদাবাজ পালিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার তাদের সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।
ছাত্রদের মধ্যে আল আমিন বলেন, চাঁদাবাজ, ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই। এ ক্ষেত্রে সবার মন মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। এখনো উখিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অফিসে গোপনে ঘুষ লেন-দেন হচ্ছে। আমরা সাধারণ জনগণ প্রকৃত সেবা পেতে চাই। সর্বক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে মুক্তি পেতে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন।



