ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের পুষ্পখালি এলাকায় সরকারি খালের মুখ বন্ধ করে মাটি ভরাট করায় পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। রোপা আমন, সবজি ক্ষেত, গোখাদ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরে পানি ওঠায় পানিবন্দী মানুষ চরম দুর্দশায় মধ্যে পড়েছে। গরু ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত শিশুসহ সব বয়সের মানুষজন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভুগীরা।
জানা গেছে, উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের পুষ্পখালী এলাকায় কিছু অংশে প্রায় ৩০০ বিঘার মতো কৃষি জমি রয়েছে আর অন্য একটি অংশে মানুষের বসবাস। এখানকার কৃষি জমিতে সারা বছরই ধান,পাট, সরিষা, গমসহ নানা ধরনের সবজির চাষ হয়ে থাকে। এ ছাড়া চরকুশাই, জামাল চর ও ইকরাশী এলাকার গরু ছাগল পালনকারী কৃষকদের গো-খাদ্যের সরবরাহ হয়ে থাকে।
সম্প্রতি, কার্তিকপুর-পুষ্পখালী হয়ে পালামগঞ্জ খালটির মুখে শামছুল আলম নামে এক ব্যক্তি মাটি দিয়ে ভরাট করায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন ৩ শতাধিক পরিবার।
সনজু আক্তার জানান, আমরা দেড় মাস ধরে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের শিশু বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। কৃষক জমির মোল্লা জানান, এ বছর প্রায় দুই বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজির আগাম চাষ করেছিলাম। জলাবদ্ধতায় সব সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আরেক কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, ২০ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলাম। সব ধানই এখন পানির নিচে। খালের ভরাট অংশটি খুলে দেয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করে এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পায়নি বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন জানান, পুষ্পখালী এলাকা দিয়ে যে খালটি প্রবাহিত হয়েছে তা কে বা কারা বন্ধ করে দিয়ে শুনেছি। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।



