পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়কটি কক্সবাজারের কলাতলী সমুদ্র সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গোপসাগরের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এ সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো এখনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা।
আপনি যদি কক্সবাজারে যান তবে মেরিন ড্রাইভ সড়কটি মিস করবেন না। এক পাশে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ, অন্য পাশে পাহাড়ের সৌন্দর্যের সমারোহ। মধ্যখানে মেরিন ড্রাইভ সড়কের চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য। কক্সবাজার সমুদ্র দর্শনে যাবেন, কিন্তু পুরো সমুদ্র সৈকতের দৃশ্যটা কেমন তা দেখতে আপনাকে মেরিন ড্রাইভে যেতেই হবে।
মেরিন ড্রাইভে ঘুরে সমুদ্রের প্রকৃত গর্জন, নীল ঢেউয়ের অতলে তলিয়ে যাওয়া সূর্যাস্তের দৃশ্য ও অবারিত সবুজের পাঠশালায় কার না মন চায় কিছুটা অবকাশ যাপন করার! সৈকতঘেঁষা মেরিন ড্রাইভে দাঁড়িয়ে নির্মল বাতাসে উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ এ পাথুরে নাগরিক জীবনে দেবে অনন্য শিহরণ। সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করার এক অপার সুযোগ রয়েছে এ মেরিন ড্রাইভে।
১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশের জন্য গৃহীত অবকাঠামো প্রকল্প এটি। সড়কটি অত্র অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি উপকূলের জনগণকে জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস হতে রক্ষা, লবণাক্ততার প্রভাব হৃাস, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও বঙ্গোপসাগরের মৎস্য শিল্পের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
কক্সবাজার কলাতলী ডলফিন মোড় পার হয়ে একটু অগ্রসর হলেই মেরিন ড্রাইভ সড়ক। কলাতলী পয়েন্ট থেকে এখানে বেড়াতে উন্মুক্ত ছাদের দ্বিতল বাসে আরোহন করতে পারেন। এ সড়কের প্রথম দিকে রয়েছে বিভিন্ন মাছের হ্যাচারি জোন। এর একটু পরেই রয়েছে দরিয়ানগর ইকোপার্ক বা দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকত। আর এ দরিয়ানগর থেকে শুরু রামু উপজেলা। রামু থেকেই মেরিন ড্রাইভের উপভোগ্য সৌন্দর্যের শুরু। মেরিন ড্রাইভের পূর্ব পাশে সারি সারি সুপারি বাগান, অরণ্যঘেরা পাহাড়, ঝর্ণা ও পশ্চিমে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত।
আরো একটু সামনে অগ্রসর হয়ে কক্সবাজার থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে এ মেরিন ড্রাইভ সড়কের সন্নিকটে হিমছড়ি সৈকত। এ স্পটে রয়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা, পাহাড়ে আরোহন করা ও সুউচ্চ পাহাড় থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করার সুযোগ। মিনি বান্দরবানখ্যাত রেজু খালের পাশে রয়েছে গোয়ালিয়া। রেজুখাল পার হয়ে দেখা যাবে বিশাল ঝাউবাগান। আর মাছ ধরার নৌকা ও সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন। এ গর্জন শুনতে শুনতে সোনারপাড়া, চরপাড়া, নিদানিয়া হয়ে উখিয়ার পাথুরে গাথা ইনানী সৈকত।
এ বিচের পাশেই রয়েছে পাঁচ তারকা মানের হোটেল। রাত্রি যাপনের বিভিন্ন হোটেলের পাশাপাশি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে একটু ভিন্ন পাথুরে গাথা ইনানী সমুদ্র সৈকত আপনাকে দেবে নতুন অনুভূতি। সব মিলিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সত্যিই অনন্য। মেরিন ড্রাইভের পাশে উখিয়ার ইনানীতে তৈরি করা হয়েছে অবকাশ কেন্দ্রের পরিবেশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ থাইল্যান্ডের ফুকেটে বিশ্বের নানান দেশের মানুষ ঘুরতে এসে প্রশান্তি অনুভব করেন এখানে।



