আগস্টে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার পর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সাপের উপদ্রব ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের ৯ মাসে উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় চার শতাধিক মানুষকে সাপে কেটেছে বলে জানা গেছে। সাপের দংশনে মারা গেছে এক স্কুলছাত্র।
২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে সাপের দংশনের শিকার হয় ২০৯ জন। বন্যার কারণে সর্বশেষ আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেই দংশিত হয় ২০৩ জন। মারা গেছে জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সীমান্ত নাথ। সীমান্ত জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের কান্তি নাথের ছেলে। এ ছাড়া প্রতিদিনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগী আসছে। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যান। অনেকের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেকে) রেফার করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার পানিতে বিভিন্ন স্থান থেকে এ উপজেলায় অসংখ্য সাপ ভেসে আসে। এরপর থেকে এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও সাপে কাটার পর অনেক রোগী, পার্শ্ববর্তী সীতাকুণ্ডু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফেনী সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও চিকিৎসা নিয়েছেন। মূলত আগস্ট মাসে বানের পানিতে বিষধর সাপ মানুষের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সাপে কাটা একজন রোগি প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। যদি ওই রোগীর শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে তখন এন্টিভেনমের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন না হলে রোগীকে এন্টিভেনম প্রয়োগ করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: নাছির উদ্দীন বলেন, সাপে কাটা মাত্রই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত। এন্টিভেনম লাগবে কি না সেটা রোগীর লক্ষণ দেখে একমাত্র অভিজ্ঞ ডাক্তারই বলতে পারবে।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মিনহাজ উদ্দিন রানা জানান, মিরসরাই উপজেলায় আগের তুলনায় সাপে কাটা রোগি অনেক বেড়েছে। এমনিতে বৃষ্টির সময় রোগী বেশি থাকে, তবে এবার বন্যার কারণে এর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সাপে কাটা অধিকাংশ রোগীকেই এন্টিভেনম দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যে রোগীর শরীরের বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে, শুধুমাত্র তাকেই এন্টিভেনম দেয়ার প্রয়োজন হয়।



