মেহেরপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। গত মঙ্গলবারেই শুধু মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪৪ জন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯৩ জন ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জনসহ মোট ২৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০০ জন। এ মাসের বাকি দিনগুলোতে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা রোগীর তুলনায় কম। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় রোগীদের একসাথে রাখা হয়েছে। তবে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে হাসপাতালে।
মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও মেহেরপুর পৌরসভা ও গাংনী পৌরসভায় স্প্রে করা হয়নি- এমন অভিযোগ পৌরবাসীর। ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকেও কোনো প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: আব্দুল আল মারুফ বলেন, অনেকে জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে রক্ত পরীক্ষা করার জন্য। মশারি ব্যবহার করার পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু হোক আর হেমোরেজিকই হোক, এ সময় জ্বর হলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ওষুধ নেয়া উচিত। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর আবারো একই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর অবস্থা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই, জ্বর হলেই সতর্ক থাকতে হবে।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: জমির মোহাম্মদ হাসিবুর সাত্তার বলেন, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কিট, আলাদা ওয়ার্ডসহ সব ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে সবখানে প্রচারণা চালানো প্রয়োজন, যাতে সবাই ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক হতে পারেন। মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, আমরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যতটুকু সম্ভব জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ বলেন, পৌর শহরে মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও প্রত্যেকটি বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে বলা হয়েছে।