যশোরের চৌগাছায় আগাম শিম চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার চাষিরা। আগাম শিম চাষ করে ভালো ফলন আর দাম বেশি পাওয়া যায় এমনটা বলছেন তারা। এ উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া শিম চাষে বেশ উপযোগী হওয়ায় সমতল জমি এবং নিচু ধানের জমির মাঝে মাঝে নালা কেটে মাটি উঁচু করে এখন শিম চাষ করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ বছর শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূল ও ভালো ফলনে শিম চাষ হয়েছে ৪৫০ হেক্টরে। এ অঞ্চলে রূপভান ও ইফশা নামে দুটি জাতের শিম বেশি চাষ হয়েছে। সাধারণত বীজ রোপণের ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। উপজেলায় সব থেকে বেশি শিম চাষ হয় পাতিবিলা, জগদিশপুর, নারায়ণপুর, স্বরূপদাহ ও ধুলিয়ানী ইউনিয়নে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠের মাঝে মাচায় নীল-বেগুনি রঙের শিম ক্ষেতগুলো শরতের আকাশের সাথে মিতালীর নয়ানাভিরাম দৃশ্য দেখে বেশ মন কাড়ল। শিম ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কারসহ পোকা-মাকড় প্রতিরোধে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
হায়াতপুর গ্রামের চাষি জাকির হোসেন বলেন, প্রায় ৪-৫ বছর ধরে আগাম শিম চাষ করে আসছি। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বাজারে শিমের দাম ভালো। বাজারে নতুন শিম উঠছে। তবে সামনের সপ্তাহে পুরোদমে শিম বাজারে আসবে। পাতিবিলা গ্রামের আজাদ হোসেন ও পান্নু মিয়া বলেন, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৮০ টাকা দরে। পেটভরা গ্রামের আমিনুর রহমান বলেন, এ বছর ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে ১ বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছি। অতি বর্ষা না হলে লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন বলেন, শিম চাষের প্রধান বাধা অতিরিক্ত বর্ষা। ক্ষেতে পানি জমে থাকলে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে শিম গাছের গোড়ায় নেমাট (কৃমি জাতীয় পোকা) আক্রমণ করে শিকড় নষ্ট এবং ফুল পচে কুশি গজানোর ক্ষমতা হারায়। তাই শিমগাছের গোড়া পচা রোগ দেখা দিলে ছত্রাকনাশক বা পানিতে পরিমিতভাবে বোরিক এসিড মিশিয়ে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যায়।