গাজীপুরে মসজিদের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে নির্যাতিত নির্মাণশ্রমিক মো: ইসরাফিল (২৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মারা গেছেন। নিহত ইসরাফিল গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর চুরির অপরাধে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।
নিহত ইসরাফিল উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি গ্রামের মো: নাসিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি (নির্মাণশ্রমিক) ছিলেন। অন্য দিকে, ইসরাফিলের ওপর নির্যাতনকারী কামরুল হাসান লিটন উপজেলার শৈলাট গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ইসরাফিল। সকাল ৭টার দিকে এলাকার সোহাগসহ কয়েকজন যুবক তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে অদূরে শৈলাট পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে একটি মসজিদের ব্যাটারি চুরির অপবাদে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। লোহার রড দিয়ে পায়ের পাতা থেকে শুরু করে পিঠ পর্যন্ত পেটানো হয় তাকে। পরে কোমরের নিচে গরম পানি ঢেলে দেয়া হয়। গরম পানিতে ইসরাফিলের দুই পায়ের পাতা থেকে কোমর পর্যন্ত ফুসকা পড়ে যায়। এ অবস্থায় নির্যাতনকারীরা ইসরাফিলের বুকে, পেটে লাথি মেরে চোর পেটানোর উৎসব শুরু করে।
এ ঘটনায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর কামরুল হাসান লিটন, বাবুল মন্ডল, শফিকুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ইসরাফিলের বাবা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পূর্বের দেয়া লিখিত অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে।



