২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ও তাদের অধিকার আদায়ের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মাস্টার মুহিব উল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার জন্য নিহতের পরিবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি- আরসাকে দায়ী করে আসছে।
এরপর একই বছরের ২২ অক্টোবর ১৮ নম্বর ক্যাম্পের একটি মাদরাসায় সশস্ত্র হামলা ও গুলি করে ছয় ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এসব বড় ঘটনার পরও একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও তা ঠেকানো যাচ্ছে না; এমনকি আশ্রয় ক্যাম্পে আরসার উপস্থিতির বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এলেও এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সঙ্ঘাতে থাকা ৫টি গ্রুপ সক্রিয় আছে। সেগুলো হচ্ছে- আরসা, আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরএসও), নবী হোসেন গ্রুপ, মুন্না গ্রুপ এবং ইসলামী মাহাজ গ্রুপ। এ পাঁচ সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে আরসা ছাড়া বাকি চার গ্রুপ এক কাতারে এসে সঙ্ঘাতে জড়াচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। সর্বশেষ সেই সময়ে ১৩ জুন পুলিশের দেয়া মুহিব উল্লাহ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদনে প্রথম বারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা সদস্যদের উপস্থিতি স্বীকার করে পুলিশ। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, মুহিব উল্লাহ আরসাপ্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর চেয়ে জনপ্রিয় নেতা হয়ে যাচ্ছিলেন বিধায় তাকে হত্যা করে আরসার সদস্যরা। মুহিব উল্লাহর সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের কারণে আরসার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তারা। ক্যাম্পে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যেখানে আরসা জড়িত নয়। তাদের মতে, নানা অপরাধের পাশাপাশি আরসা সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে কাজ করে আরসা।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারে আগে থেকেই আশ্রয় নেয়া সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গাসহ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৪টি ক্যাম্পে বসবাস করছেন। কখন তারা স্বদেশে ফিরে যাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।