লালমনিরহাটের আদিতমারী ও হাতীবান্ধা উপজেলায় চারটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলায় তিনটি ও আদিতমারী উপজেলায় একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপরদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ১২টি, আদিতমারীতে আটটি ও হাতীবান্ধা উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গত রোববার এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা শিক্ষা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ আদেশ জারি করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দফতরে।
রোববার থেকে পাঠদান বন্ধ থাকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো হলো লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি বি এল উচ্চ বিদ্যালয়, কালমাটি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাহাটি উচ্চ বিদ্যালয় ও আদিতমারীর গোবর্দ্ধন হায়দারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।

পাঠদান বন্ধ থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হলো- লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধুরাম প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিণচড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১নং হরিণচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর গোকুণ্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২নং হরিণচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিণচড়া কুটিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, রতিপুর মণ্ডলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিস্তা কেআর খাদেম প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিস্তা মাদরাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাংড়া আবাসন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজী জফুর উদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ ছাড়াও কালমাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবর্দ্ধন ইসমাইলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবর্দ্ধন প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবর্দ্ধনহাট ইসমাইলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মর্নিয়ারচর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বারঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম হলদীবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ইতোমধ্যে কিছু কিছু বিদ্যালয় থেকে পানি নেমে যেতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় বলেন, বন্যার কারণে জেলায় ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকায় পানি নেমে গেলে পাঠদান চালু হবে।
লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। জেলার চারটি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে পানি নেমে গেলে পাঠদান শুরু করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ তথ্য মতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা একেবারেই কমে গেছে। সেক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি সামনে আর পানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে পানি কমার সাথে নদী ভাঙন দেখা দেয়। এজন্য আমরা জরুরি আপদকালীন ভাঙন রোধে জিও ব্যাগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।