৯০-এর দশকে পাহাড়ে বাঁধ দিয়ে প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে বান্দরবানের সুয়ালক এলাকায় তৈরি করা হয়েছিল পর্যটনকেন্দ্র প্রান্তিক লেক। প্রান্তিক লেকের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও স্বচ্ছ লেকের পানি দেখতে পর্যটকরা ছুটে আসত সেখানে। সে সময় বেশ কয়েকটি ছায়াছবির শুটিংও হয়েছিল। জেলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরত্বে অনেকটা প্রান্তিক এলাকা হওয়ায় এ পর্যটন কেন্দ্রটি অনেকটাই অবহেলিত ছিল। প্রথমদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ এটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকলেও পরে জেলা প্রশাসন এটির সংস্কার করে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। পর্যটকরা বেড়াতে এসে মুগ্ধ হয়ে ফিরছেন। সবুজ পাহাড়ের কোলে এক দিকে লেকের স্বচ্ছ পানি অন্য দিকে আধুনিক সব স্থাপনা পর্যটকদের মন কাড়ছে।
গত সোমবার বিকেলে পর্যটন কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন। এ সময় তার সাথে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ পর্যটন কেন্দ্রটিতে রয়েছে প্রায় ২৫ একর আয়তনের প্রাকৃতিক জলাশয় কৃত্রিম লেক। লেকের পাহাড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। এ ছাড়া লেকের পাড়ে উন্মুক্ত মঞ্চ, পিকনিক স্পট, বিশ্রামাগার, পর্যেবক্ষণ টাওয়ারসহ লেকের জলে ঘুরে বেড়াতে সৌরবিদ্যুৎচালিত সুন্দর বোট রয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এখানে লেকে মাছ শিকারের ব্যবস্থাও রয়েছে। এখানে রাতে তাঁবু টাঙ্গিয়ে ক্যাম্পিংয়ের জন্য এটি আদর্শ জায়গা।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, বৈচিত্র্যময় একটি জেলা বান্দরবান। পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রান্তিক লেক পর্যটন স্পটটি আরো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভ্রমণপিপাসুদের সুবিধার্থে এখানে নেপাল থেকে আমদানি করা অ্যাডভেঞ্চার ট্রি-টপ, জিপ-লাইন ট্রলি (জিপলাইনার) এবং শিশুদের জন্য কিডস কর্নার করা হয়েছে। প্রকৃতির নির্মল বাতাস, পাখির আওয়াজে প্রাণজুড়ানো স্থানটি পিকনিক ও যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত একটি দর্শনীয় স্পট। জনপ্রতি ২০ টাকায় টিকিট কেটে প্রান্তিক লেক পর্যটন স্পট ভ্রমণ করতে হবে। স্পটের ভেতরে লেকের পানিতে নৌকা ভ্রমণ এবং অন্যান্য রাইটের জন্য আলাদা অর্থ গুনতে হবে।
যেভাবে যাবেন : বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের হলুদিয়া বাজার নেমে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত টমটমে করে যেতে পারবেন প্রান্তিক লেক। রিজার্ভ সিএনজিতে ভাড়া পড়বে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। যেকোনো রিজার্ভ গাড়ি বা প্রাইভেট গাড়িতে করে বান্দরবান জেলা শহর থেকে যাওয়া যাবে। এখানে ক্যাম্পিং করতে চাইলে ডিসি অফিস থেকে আগেই অনুমতি নিতে হবে। প্রান্তিক লেকে রাত যাপনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আশপাশে খাবারের কোনো ভালো রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসতে হবে।