চিকিৎসাসেবায় ১৭ বার দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া যশোরের চৌগাছা মডেল হাসপাতালে চরম জনবল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পাঁচ চিকিৎসক ও অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরতরা।
যার ফলে মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালের মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩২টি। খাতাকলমে কর্মরত দেখানো হচ্ছে ১৫ জন। যদিও এর মধ্যে ছয়জন রয়েছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। কেউ কেউ আবার দেশের বাইরেও অবস্থান করছেন।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন, শিশু, অর্থো, কার্ডিও, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন এবং নবসৃষ্ট সহকারী সার্জন, আইএমও, প্যাথলজিস্ট, অ্যানেসথেসিস্ট এমনকি আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারও নেই। ভারপ্রাপ্ত হয়ে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন ডা: সুরাইয়া। হাসপাতালে এ মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি অ্যানেসথেসিয়া, অর্থো ও শিশু বিশেষজ্ঞসহ ২১ জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া দুইজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, প্রধান সহকারী, প্রধান সহকারী-কাম হিসাবরক্ষক, ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারীসহ ৭১টির পদের মধ্যে ৩৭টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিগত দিনে চৌগাছা মডেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক চিকিৎসক ইমদাদুল হকের চেষ্টায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। মা ও প্রসূতি সেবায় অবদান রাখার ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এটি উপজেলা পর্যায়ে একটানা দেশসেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১৬ সালেও হাসপাতালটি অর্জন করে জাতীয় পুরস্কার। স্বাস্থ্যসেবায় সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করে এ হাসপাতালটি হেলথ মিনিস্টার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ পেয়েছে। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন তৎকালীন প্রতিষ্ঠান প্রধান সেলিনা বেগম।
দীর্ঘদিন গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় হাসপাতালটিতে গর্ভবতী মায়েদের সেবা ব্যহত হয়। পরে হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারা নামে একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডেপুটিসনে কাজ করছেন। তিনিই গর্ভবতী মায়েদের সেবা দিয়ে চলছেন।
গত বুধবার হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত রোগী লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। মাত্র চারজন চিকিৎসক রোগী দেখছেন। ৩ নম্বর রুমে ডা: শাহিদুর রহমান ইমন রোগী দেখছেন। এ রুমের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মা, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের শত শত রোগী। ১২ নম্বর রুমে রোগী দেখছেন ডা: সনচিতা সেন। এ রুমের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন গর্ভবতী ও গাইনি সমস্যাসংক্রান্ত শত শত নারী রোগী। এ ছাড়া ডেন্টাল সার্জন ডা: ইয়াসিন আরাফাত রোগী দেখার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারা ডেলিভারি ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: লুৎফুন্নাহার লাকি বলেন, অর্ধেক লোকবল নিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। মোট লোকবল ২১০ জন। এরমধ্যে খাতা কলমে কর্মরত রয়েছেন ১২৯ জন, ফাঁকা রয়েছে ৭৯ জন। কর্মরতদের মধ্যে ডা: আব্দুস সামাদ প্রেষণে যশোর ২৫০ বেডে, ডা: গোলাম রসুল, ডা: সাইমা নাহিদ শান্তা ও ডা: মৃদুল কান্তি ছুটি না নিয়েই দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশে ডাক্তার ও হাসপাতালের সংখ্যার অনুপাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন করে ডাক্তার ভাগে পড়ে। চৌগাছায় তার ব্যতিক্রম। হঠাৎ করে অনেকে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছে। তাই এ শূন্যতা। আমরা এ শূন্যতা পূরণের জন্য চেষ্টা করছি।
চৌগাছা মডেল হাসপাতালে জনবল সঙ্কট, ব্যাহত সেবা
চিকিৎসাসেবায় ১৭ বার দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া যশোরের চৌগাছা মডেল হাসপাতালে চরম জনবল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পাঁচ চিকিৎসক ও অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে এ হাসপাতালের...



