মৌলভীবাজারের রাজনগরে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন বিদেশফেরত মুজিবুর রহমান। ফলন ভালো হওয়ায় এবং দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন নিয়ে মুজিবুর এখন নিজেকে একজন সফল চাষি মনে করছেন।
গত বছর অল্প পরিমাণ জমিতে চাষ করেও তিনি তিন লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। চলতি বছর বাড়ির আঙ্গিনাসহ এক একর জমিতে তিনি প্রায় তিন হাজার (২,৮০০) গাছ লাগিয়েছেন। সম্প্রতি বন্যায় টমেটো ক্ষেতের আংশিক ক্ষতি হলেও আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার বাগান। সামনে আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প থেকে খরচ বাদে আরো ছয় লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। কীটনাশক ব্যবহার না করেই তিনি অসময়ে এমন টমেটো উৎপাদন করছেন।
গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষের এ কার্যক্রম হাতে নেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইস্টিটিউট। এর আওতায় সিকৃবির গবেষণার মাধ্যমে বেশ কিছু জাত উদ্ভাবন করা হয়। বিচ্ছিন্নভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় গ্রাফটিং চারার মাধ্যমে চাষ শুরু হলেও মূলত সিলেট অঞ্চলে ২০১৭ সালে এর ব্যাপকতা পায়।
গতকাল বুধবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেলীজুড়ী গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির আঙ্গিনাসহ মুজিবুরের বিশাল টমেটোর বাগান। মুজিবুর বলেন, দুই বছর আগে সৌদি আরব থেকে এসে অনেকটা বেকার হয়ে গেলাম। চিন্তা হলো একটা কিছু করতে হবে। এই ভাবনা থেকেই গত বছর (২০২৩ সাল) টমেটোর চাষ শুরু করি। আশাতীত লাভবান হওয়ায় এবার আরো ব্যাপক আকারে শুরু করি। তিনি বলেন, দুই হাজার ৮০০টি টমেটো গাছ রয়েছে আমার ক্ষেতে। এখান থেকে দুই দিন পর পর ২০০ থেকে ২৫০ কেজি টমেটো সংগ্রহ করি।
রাজনগর ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, মুজিবুর নিজ উদ্যোগেই গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে এগিয়ে এসেছেন। আমরা তাকে প্রয়োজনিয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছি মাত্র।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, অসময়ের টমেটো চাহিদা প্রচুর। আমরা আগামী বছর কৃষকের সাথে আলাপ করে আরো ব্যাপকহারে টমেটো চাষের উদ্যোগ নেবো।



