এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হতে পারে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। পরিকল্পিতভাবে হাওরের উন্নয়ন হলে বিশে^ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত পর্যটকরা হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসবেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগের অভাবে পর্যটনে সম্ভাবনাময় এ হাওর অবহেলায় পড়ে আছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি হাকালুকিতে। এদিকে একটি মহল প্রতিবছর হাওরের বিল শুকিয়ে কোটি কোটি টাকার মাছ লুট করছে। এ সিন্ডিকেটটি ভাঙতে পারছেন না প্রশাসন।

জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাওর ও দেশের অন্যতম মিঠা পানির মৎস্যভান্ডার খ্যাত হাকালুকির আয়তন ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর। এমনকি ইলিশ মাছও পাওয়া যায় এ হাওরে। হাওরে দিন দিন কমছে দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। হাকালুকিতে ১০৭ প্রজাতির দেশীয় মাছ থেকে বর্তমানে ৪৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন, প্রজননের সময় অবাধে মৎস্য শিকার, অভয়াশ্রমের অপ্রতিকুলতাসহ নান কারনে বিলুপ্ত হচ্ছে মিঠাপানির মাছ। এখনো টিকে থাকা ৬৩টি প্রজাতির মাছের মধ্যে অন্যতম হলো চিতল, পাবদা, রাইনমাছ, আইড়, চাপচেলা, মেনিমাছ, বাশপাতা, সরপুটি, ফেনীমাছ, বাতাসি ইত্যাদি।

এলাকাবাসী জানান, হাকালুকির ঐতিহ্য ক্রমেই বিলুপ্ত হচ্ছে মানবসৃষ্ট বিভিন্ন অপকর্মের কারণে। হাওর ঘেঁষে পরিবেশের ক্ষতিকর ইটভাটা নির্মাণ, হাওর জবর দখল করে অবাধে ঘরবাড়ি নির্মাণ, হাকালুকির ভেতরে পাহাড়ী বন উজাড়, শীতকালে অবাধে অতিথি পাখি নিধন, শুষ্ক মৌসুমে বিল শুকিয়ে গেলে পোনামাছসহ সকল প্রজাতির মাছ নিধন এবং সরকারি জমি জবর দখল করে হাওরের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে অপকর্মকারীরা। এলাকাবাসীর দাবি, সাবেক সরকারের দলীয় লোকদের প্রভাবে প্রশাসন হাওরের ঐতিহ্য রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে না পারলেও বর্তমান সরকারের সময় হাওরকে রক্ষায় কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

হাকালুকিতে বেড়াতে আসা তানজিমুল হাসান বলেন, হাকালুকি হাওরে আরো ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, ভাটেরা থেকে হাওরে প্রবেশের রাস্তা পাকাকরণ, হাওরে সরকারিভাবে বোট বরাদ্ধসহ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে পর্যটকদেরকে বেশি আকৃষ্ট করা যাবে।
কুলাউড়ার ইউএনও মহিউদ্দিন জানান, পর্যটনের জন্য একটি অপার সম্ভাবনাময় হাওর হাকালুকি। এখানে পরিকল্পিতভাবে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনেক কিছু করার আছে। আমরা বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ইছরাইল হোসেন বলেন, মৌলভীবাজার জেলার ঐতিহ্য হাকালুকি হাওরের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের নজরে আনা হবে।