সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন নাজির ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে দখল করে নিয়েছেন হাতেম হাসিল ভাতহাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি পদ। দুই যুগের বেশি সময় ধরে ওই স্কুলের দায়িত্বে থেকে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্য করলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বিদ্যালয়ে। এলাকার বিএডিসির (ক্ষুদ্র সেচ) ও সরকারি একটি পুকুর রয়েছে তার একক নিয়ন্ত্রণে।
জানা যায়, উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের অজপাড়াগাঁয়ে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হাতিম হাসিল ভাতহাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়। ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে ১৯৯৯ সাল থেকেই ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি নাসির উদ্দিন। তিনি দীর্ঘ দিন সভাপতি থেকে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম রেজা।
অপর দিকে ভাতহাড়িয়া গ্রামের কুটার গাঁতী মৌজার মাইটাক বাড়ি সরকারি ৭ বিঘা পুকুরটি নিজের নামে অল্প টাকায় লিজ নিয়ে আবার বেশি দামে সাব-লিজ দিয়েছেন তিনি। নাসির উদ্দিন নাজির ভাতহাড়িয়া গ্রামের মৃত শাহাদাৎ হোসেন সাদ্যুল্লার ছেলে।
ভাতহাড়িয়া গ্রামের জমির মালিক আবদুর রশিদ, সামিদুল, হাফিজুর রহমান, ইদ্রিস আলীসহ অনেকেই জানান, আওয়ামী লীগ নেতা নাসির ২৫ বছর ধরে ভাতহাড়ীয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাবস্থায় শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের গ্রামের বিএডিসির (ক্ষুদ্র সেচ) ডিপ-টিউওবয়েলটি নাসিরের দখলে রয়েছে ৩৪ বছর ধরে। তিনি ক্ষুদ্র সেচ আইনে ডিসিমাল প্রতি ৪০-৫০ টাকা নেয়ার কথা। কিন্তু জমির মালিকদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ডিসিমাল প্রতি নেয়া হচ্ছে ৯০ টাকা। ডিপ-টিউবওয়েল জমির মালিকরা জমি না দিলে তাদেরকে মামলা ভয়ভীতি দেখানো হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা লীগের সহসভাপতি নাসির বলেন, স্কুলে সভাপতির দায়িত্ব থাকা অবস্থায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে কিন্তু টাকা নেইনি, আর বিএডিসির আইন অনুযায়ী টাকা নেয়া হচ্ছে।
রায়গঞ্জে বিএডিসি (ক্ষুদ্র সেচের) সহকারী প্রকৌশলী আনন্দ বর্মণ জানান, অতিরিক্ত টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবো।



