বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে চোখ, মুখ ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গুলি লাগা আব্দুল্লাহ আল বাকী মিঠু (৩২) এখন বাম চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসার কারণে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় চাকরিটিও হারিয়েছেন তিনি। এদিকে বিভিন্ন মহল থেকে সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হলেও সময়ের ব্যবধানে সেগুলো পাচ্ছেন না তিনি।
তার চিকিৎসায় দেহের বিভিন্ন স্থান থেকে গুলি বের করা হলেও এখানো আটটি বুলেট রয়ে গেছে তার চোখে, মুখে ও কপালে। ডান চোখের পাতার ওপরে লাগা গুলিটি আপারেশন করার পরও বের করা সম্ভব হয়নি। আর বাম চোখের গুলিটি চোখের ভেতরে চলে যাওয়ায় সেটি আর বের করা যাবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
মিঠু নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুরের কৃষক আব্দুল খালেকের ছেলে। বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে ২০১৫ সালে মেডিক্যাল রেডিওলজি বিভাগ থেকে পাস করে তিনি গত এক বছর থেকে সিরাজগঞ্জের ড্যাফোডিল ইন স্পেশালিস্ট হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করার দায়িত্বে ছিলেন।
মিঠু আরো জানান, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার কেজির মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। মৃত ভেবে লাশের সাথে তাকে ফেলে রাখা হয়েছিল। চেতনা ফিরলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকলে নার্স ও চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসকরা তার শরীরের গুলিগুলো বের করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে এক চোখে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু তাতেও তার চোখের উন্নতি হয়নি।
মিঠুর বাবা আব্দুল খালেক বলেন, গত দুই মাস থেকে সংসারে কোনো আয়-রোজগার নেই। তিনি ডায়াবেটিক ও হার্টের রোগী। তার হার্টে রিং পরানো রয়েছে। কাজ কর্ম করতে পারেন না। সংসার আর চালছে না তাদের। তার ওপর চিকিৎসা খরচ। সব মিলিয়ে কী করবেন, দিশাহারা তিনি। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকার আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করলেও আমার ছেলেটার বেলায় তা জোটেনি।
বাগাতিপাড়ার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মুনাইম ইসালম রুমি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরসংশ্লিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। সেই কমিটির কাছে প্রায় চার সপ্তাহ আগে আবদুল্লাহ আল বাকি মিঠুর সব কগজপত্র ও তথ্য পাঠানো হয়েছে।



