ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের আওতায় কাদিগড়, হবিরবাড়ি ও মল্লিকবাড়ি বিটে বনায়নের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে রোপণকৃত চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ এনে স্থানীয় কৃষকদের নামে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানী করছে বনবিভাগ। এরই প্রতিবাদে বনবিভাগের ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন উর রশীদ খান ও কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খানকে প্রত্যাহার ও বিচার দাবি এবং ১৯৮৩ ও ১৯৯২ সালের গ্যাজেট বাতিলের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ও ইউএনও বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন।
বিভিন্ন দফতরে দেয়া অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে রাজস্ব খাত থেকে ভালুকা রেঞ্জের আওতায় কাদিগড়, হবিরবাড়ি ও মল্লিকবাড়ি বিটে ২০০ একর বনায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু হবিরবাড়ি ও কাদিগড় বিটে ১০ একর বনায়নের দাবি করা হলেও হবিরবাড়ি মৌজায় আট একর জমিতে আট হাজার চারা লাগান হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। আর মল্লিকবাড়ি বিটে কোনো চারাই রোপণ করা হয়নি।
সম্প্রতি সরেজমিন গেলে স্থানীয় কৃষক তোফায়েল ইবনে জামাল জানান, পাড়াগাঁও মৌজায় বনায়নকৃত জমি আরওআর রেকর্ডমূলে তাদের শত বছরের দখলীয় এবং দাদার আমল থেকে ভোগদখলে আছেন। ১৯৮৩ সালে কিছু জমি বনবিভাগের চয়েস তালিকাভূক্ত করা হয়। কিন্তু ডিমারগেশন ছাড়াই গত ২ অক্টোবর ওইসব জমিতে বনবিভাগ চারা লাগাতে এলে এলাকাবাসী বাধা দেয়ায় থানায় দুইটিসহ আদালতে ২৪ জনের বিরুদ্ধে ৮/১০টি মিথ্যে মামলা দায়ের করে।
জমির মালিক টিপু সুলতান জানান, পাড়াগাঁও মৌজায় এক্সিল্যান্ড সিরামিক ও টাইলস ফ্যাক্টরি, বেস্টওয়ে গ্রুপ, ফিনিক্স গ্রুপ, হামিদ এগ্রো, রানার অটো, এনডিই ও ডেবোনিয়ার প্যাডিংসহ বেশ কয়েকটি চলমান ও প্রস্তাবিত কারখানার দখলে শতাধিক একর বনভূমি থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনী ব্যবস্থা নিচ্ছে না বনবিভাগ।
মামলার আসামি নাছির উদ্দিন জানান, ভালুকা রেঞ্জে ১৭৭ একরের উপরে বনায়ন করা হয়েছে। আর এসব বনায়ন দেখিয়ে ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন উর রশীদ ও কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খান কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন।
কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আনোয়ার জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করছেন তিনি। জনসাধারণের সাথে কথা বলার জন্য সরকার তাকে মোবাইল দেয়নি, কাজেই তিনি সাধারণ মানুষের ফোন ধরেন না। রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন উর রশীদ খান বনায়নের বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অফিস থেকে তথ্য নেয়ার পরামর্শ দেন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আ ন ম আবদুল ওয়াদুদ জানান, উল্লেখিত অনিয়ম ও মামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভালুকায় বনায়নের নামে অর্থ লোপাটের চেষ্টা
ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের আওতায় কাদিগড়, হবিরবাড়ি ও মল্লিকবাড়ি বিটে বনায়নের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে রোপণকৃত চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ এনে স্থানীয়...



