লালমিনরহাটে ‘মঙ্গা তাড়ানো আগাম জাতের ধান’ কাটা শুরু হয়েছে। কিষাণ কৃষাণিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। তাদের যেন দম ফেলানোর ফুরসৎ নেই এখন।
দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতিবারই বছর শেষে কৃষক ও দিনমজুর পরিবারে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিত। সেই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্য এই প্রচেষ্টা, আগাম জাতের ধানের চাষাবাদ। এই ধান চাষ শুরু হওয়ার পর এখন আর সেই সঙ্কট নেই। প্রত্যেক কৃষক পরিবারের ওঠোনই এখন নতুন ধান ও খড়ে পরিপূর্ণ।
লালমিনরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলা সদরসহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার ১৬ হাজার ৫০৭ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ব্রি ধান-৩৩, ৩৯, ৭১, ৭২, ৯০ ও ৯৫, ব্রি হাইব্রিড ধান-৪ ও ৬, বিনা ধান-৭, ১১, ১৬, ১৭ ও ২২, চায়না, পারিজা, ধানীগোল্ড, টিয়া, ময়না, ইস্পাহানি-২, হিরা-৫, এসিআই-২, অ্যারাইজ এজেড-৭০০৬ এবং অ্যারাইজ এইচএন-৯০১৯ সহ বিভিন্ন জাতের আগাম জাতের ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা। সেসব ধান এখন পরিপূর্ণ হয়ে পেকে গেছে।
গত সপ্তাহে লালমিনরহাট টু রংপুর মহাসড়কসংলগ্ন যুব উন্নয়নের পাশে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছিলেন রফিকুল ইসলাম, আশরাফুল হক, রশিদুল ইসলাম ও বক্কর আলীসহ ৫-৭জন কৃষক। ধানের বস্তা ও ধানের আঁটি (খড় মুঠা) ভটভটিতে তুলতে ব্যস্ত দেখা যায় জমির মালিক মন্টু মিয়া ও অন্যদের।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এ অঞ্চলে খুবই মঙ্গা ছিল। মানুষ কাউন ও গমের ভাত খেত। কিন্তু ১০-১২ বছর ধরে এ অঞ্চলে আগাম জাতের ধান চাষাবাদ হওয়ায় মঙ্গা দূর হয়েছে। অন্য ধানের চেয়ে এক মাস আগেই আগাম জাতের ধান পাকে। তাই এই ধানকে মঙ্গা তাড়ানো ধান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
কৃষক মন্টু মিয়া জানান, এই মঙ্গা তাড়ানো ধানের চেয়ে খড়ের চাহিদা ও মুনাফা বেশি। প্রতি বছরই ছোট-বড় খামারিদের মাঝে গরুর খাদ্য হিসেবে খড় সঙ্কট দেখা দেয়। সেই সঙ্কট পূরণে আগাম জাতের ধান কেটে মাড়াই করে দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি শ্রমিকরা। বিঘাপ্রতি ১০-১২ মণ ধান হলেও প্রতি আঁটি খড় পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গো-খাদ্য হিসেবে বেশ চাহিদা এ অঞ্চলে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, চলতি মৌসুমে এ জেলার পাঁচটি উপজেলায় আগাম ধানের চাষ হচ্ছে। এসব জমির ধান কেটে আবারো ধান রোপণ করা যায় অথবা অন্য কোনো ফসল ফলানো যায়। তাই ইতোমধ্যে এই জাতের ধানের রোপণ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।



