মানিকগঞ্জ ঘিওরে একটি রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের কাজ রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিডিউল না মেনে এবং নামমাত্র বিটুমিন দিয়ে কাজ করায় সকালেই দেখা যায় সেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার সিংজুরি ইউনিয়নের চরমাইজখাড়া-খাগ্রাটা এলাকার ওই রাস্তার পিচ ঢালাই দেয়া হয়। শনিবার সকালেই তা উঠে যেতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের লোকজন স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে নিম্নমানের পিচের কার্পেটিংয়ের কাজ করছে, যা হাত দিয়ে টান দিলে বা পা দিয়ে ঘঁষা দিলেই উঠে যাচ্ছে। ৪০ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং করার কথা থাকলেও কিছু কিছু স্থানে মাত্র পাঁচ-সাত মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে মাটি ও দুই স্থানে প্যালাসেটিং ধরা থাকলেও তা তারা দেননি। ভারী বৃষ্টিপাতে কার্পেটিংসহ সব ভেসে যাবে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চরমাইজখাড়া, খাগ্রাটা এলাকার এক হাজার মিটার সড়ক রিপেয়ারিং কাজের টেন্ডার হয়। কাজের ব্যয় ধরা হয় ৫৩ লাখ টাকা। কাজটি পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাকছুদ ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন শফিকুল ইসলাম নিশাদ।
চরমাইজখাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক মেম্বার আব্দুস সামাদ, হায়াদ আলী ও আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারের লোকজন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজ করেছেন। ইতোপূর্বে বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি, মাটি, কাঁদায় ভরে গিয়েছিল। সেই কাদা-মাটির ওপর দিয়েই তারা কার্পেটিং করতে আসেন। আমরা বাধা দিলেও তারা শুনেননি। রাস্তার কোনো কোনো জায়গায় একেবারে পিচ দেয়া হয়নি। আবার অনেক জায়গায় পিচ উঠে যাচ্ছে। এ ছাড়াও কার্যাদেশ অনুযায়ী রাস্তার কার্পেটিং পুরু হওয়ার কথা ছিল ৪০ মিমি, সেখানে কোনো কোনো স্থানে পুরু হয়েছে মাত্র পাঁচ-সাত মিলিমিটার।
কাজের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ঠিকাদারের লোকজন দাহ্য তরল ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে কর্মস্থলে কাজ করতে আসেন। এলাকাবাসীও কাজে বাধা দেন। পরে এলাকাবাসী পানি-কাদার মধ্যে কাজ বন্ধ করার বিষয়টি বললে রাস্তায় পানি জমে থাকা জায়গাগুলো আমরা কার্পেটিংয়ের কাজ বাদ রাখি।
তিনি আরো বলেন, পরে দাহ্য বিটুমিনমিশ্রিত নির্মাণসামগ্রী নষ্টের কথা বিবেচনা করে উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে তাদের কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়।
খাগ্রাটা গ্রামের সোনা মিয়া, নূরুল ইসলাম, মিন্টু মিয়া জানান, হাত দিয়ে ঘঁষলেই উঠে আসছে পিচ ও স্টোনস। বেরিয়ে পড়ছে নিচের কাদামাটি। পা দিয়ে সামান্য ঘঁষা দিলেও উঠে আসছে পিচ ও চিপস।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হয়েছে এই রাস্তা। মাটির ওপড়ে ইটের খোয়ার প্রলেপ না দিয়েই ঢেলে দেয়া হয়েছে পিচ। যার ফলে পিচ ও পাথর উঠে আসছে সহজেই।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাকছুদ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক শফিকুল ইসলাম নিশাদ অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, কাজ রাতে করা হয়েছে। কোনো ধরণের ত্রুটি থাকলে সেটি ঠিক করে দেয়া হবে। প্রয়োজনে আবার ঢালাই দেয়া হবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: শাহিদুজ্জামান বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন। কাজটি সম্পর্কে কিছুই জানি না। কাজ চলমান আছে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে ঠিক করে দেয়া হবে।
রাতে সড়কে কার্পেটিং উঠে গেল সকালে
মানিকগঞ্জ ঘিওরে একটি রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের কাজ রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিডিউল না মেনে এবং নামমাত্র বিটুমিন দিয়ে কাজ করায়...



