দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে নেয়া হয় ছাত্র সংসদ ফি। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আগে কৃষি কলেজ থাকা অবস্থায় ছাত্র সংসদ চালু থাকলেও ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর আজ অবধি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতি সেমিস্টারে ছাত্র সংসদ ফি বাবদ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর থেকে ১০০ টাকা করে নেয়া হয়। সে হিসাবে প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ফান্ডে জমা হয় ১১ লাখ ২০ হাজার ৩০০ টাকা; কিন্তু ছাত্র সংসদ চালু না থাকলেও কেন নেয়া হয় এই ফি এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নামে আদায়কৃত এই অর্থই বা কোন খাতে ব্যয় হয় সেই বিষয়েও অবহিত নন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র সংসদ ফি দিতে নারাজ শিক্ষার্থীরা।
ছাত্র সংসদ চালু না থাকলেও ছাত্র সংসদ ফি নেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসনীমুল হাসান প্লাবন বলেন, হাবিপ্রবিতে নেই ছাত্র সংসদ। অথচ সেই শুরু থেকেই দেখে আসছি এনরোলমেন্ট হলেই কেন্দ্রীয় সংসদ ফি নেয়া হয়। অতিরিক্ত এই ১০০ টাকা যে প্রতি সেমিস্টারে সবাই দিচ্ছি, সেই টাকাটা কোথায় খরচ হচ্ছে? এখনো সেই টাকাটা নেয়া হচ্ছে। এত এত টাকা যাচ্ছে কোথায়? কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে?
ইংরেজি বিভাগের একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মো: সজিব হোসেন বলেন, একে তো সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট ফি দিয়ে পড়তে হয় আমাদের তার ওপর রয়েছে খাতবহির্ভূত ফি। হাবিপ্রবিতে কোনো ছাত্র সংসদ নেই; কিন্তু প্রতিটা সেমিস্টারে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গুনতে হচ্ছে ছাত্র সংসদ ফি।
এ বিষয়ে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির একটি ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. হাসান ফুয়াদ এল তাজ বলেন, ছাত্র সংসদ বাবদ আদায়কৃত ফি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টারে ও হলগুলোতে ব্যবহার করা হয়। যে ফিগুলো আসে এগুলো বিভিন্ন খাতে যেমন- খেলাধুলা, পত্রিকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।



