গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির আয়োজনে রাতভর কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ কনসার্টে গভীর রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জুনিয়রদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী বিজয় কুমার দত্ত, সরকার ও রাজনীতি শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন অব্রতো, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান নাজিজসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীরা হলেন প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: ফরহাদ হোসেন বিপুল, মাহিম খান, মহিউদ্দিন আহমেদ সৌরভ, মো: ইব্রাহিম খলিল সাব্বির।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, ১০ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টায় মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির আয়োজিত কনসার্টে ৫২তম ব্যাচের তিন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে অভিযুক্তরাসহ তাদের কিছু বন্ধু নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ভুক্তভোগীদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করে এবং জিজ্ঞেস করে তারা বহিরাগত কিনা। জুনিয়র শিক্ষার্থীরা যথাযথ পরিচয় স্পষ্ট করার পরেও সিনিয়ররা পেশিশক্তি প্রদর্শনসহ অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, প্রথমে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বিপুলকে তার পরিচয় বলতে বলে, পরিচয় দিলেও তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে অভিযুক্তরা। একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মাহিম খানও তাদের অযাচিত অশোভন আচরণের শিকার হয়। ‘এই তুই ক্যাম্পাসের কিনা’ জিজ্ঞেস করেই আকস্মিকভাবে গায়ে হাত তোলে সিনিয়ররা। ফলে মাহিমের চশমা ভেঙে যায়। এ দিকে সিনিয়রদের হাত থেকে রেহাই পায়নি ভুক্তভুগী শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ সৌরভ। তাকে মাটিতে ফেলে অমানুষিক আক্রমণ চালাতে থাকে ১৫-২০ জন সিনিয়র।
এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক অসীম চন্দ্র রায় বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর দেখি মহিউদ্দিন আহমেদ সৌরভকে খুব বাজেভাবে পেটানো হয়েছে। আমরা অভিযুক্তদের মধ্য থেকে একজনকে তখনই শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
সেই শিক্ষার্থীর নাম বিজয় কুমার দত্ত। বাকিদের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



