গ্রাম বাংলার চিরায়ত প্রাচীন ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব। এ উৎসব নিয়ে গ্রামীণ জনপদে উঠেছে সাজ সাজ রব। পাকা সোনালী ধান ঘরে তুলে নতুন চালে তৈরি হবে ক্ষীর, পায়েস আর নবান্ন উৎসব। এ সব মজাদার খাবার তুলে দেয়া হয় প্রিয়জনের মুখে। আর এতে কৃষকেরা খুঁজে পায় বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলানোর স্বার্থকতা।
আমাদের নদীমাতৃক দেশের ওপর দিয়ে ছোট বড় হাজারো নদী প্রবাহিত হয়েছে। বন্যার প্রভাব থেকে মুক্ত জেলাগুলোতে আমন ধানকাটা শুরু হয়েছে। পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
প্রতি বছর ১ অগ্রহায়ণ থেকে এক সপ্তাহ চলে নবান্ন উৎসব। নবান্ন উৎসবকে ঘিরে গ্রামের কৃষকের পাশাপাশি নারীরাও কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা দিগন্তজোড়া মাঠ থেকে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছে। সেই সাথে গায়ের বধূদের নিতে হচ্ছে নানা রকম প্রস্তুতি। অন্য বছরের তুলনায় এবার বন্যায় অনেক এলাকায় ব্যাপকভাবে ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়েছে। আবার বন্যামুক্ত জেলায় প্রচুর পরিমান আমন ধানের ভাণ্ডার রয়েছে। নতুন ধান আসার আগে নিজেদের বাড়ি-ঘর ও মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রঙ ও চুন দিয়ে আল্পনা এঁকে নারীরা তাদের শিল্পীমনের ভঙ্গিমা প্রকাশ করেছে।
কৃষকেরা মিষ্টিমাখা সোনালী রোদ গায়ে মেখে পাকা ধান কেটে ঘরে আনছে। চিন্তা ও চেতনায় শুধু পাকা ধানের স্বপ্ন। পাকা ধান বাড়িতে মাড়াই করার পর, কৃষক বধূরা সেই ধান পানিতে ভিজিয়ে রাখেন একরাত। তারপর, সেই ভিজানো ধান সেদ্ধ করেন। এ ধান দু’দিন রোদে শুকিয়ে ঢেকিতে বা মেশিনে ভাঙানো হয়। নবান্ন উৎসবে প্রত্যেক গ্রামে জবাই করা হয় গরু ও খাসি।
পরগোনা প্রধান কেরোবিন হেম্রম বলেন, নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি ক্ষীর,পায়েস প্রিয়জনের মুখে তুলে দেয়া। গ্রামের কৃষক-কৃষানীর মধ্যে নতুন করে নবান্নের উৎসব জাগিয়ে তুলে। বাহ! কি আনন্দ। বিরাজ করে গাঁও- গ্রামে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য। পালা বদলের হাওয়ায় বদলে যায় গ্রামের স্বচিত্র প্রতিচ্ছবি। চলছে সাজ সাজ রব। গড়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব পরিবেশ।
গ্রামের নারীরা বলেন, আমরা আদিবাসি পাড়ায় বসবাস করি। নতুন ধান পাকলে আমরা নারী ও পুরুষ দলগতভাবে মাঠে গিয়ে পাকা ধান কাটি। ধান কাটা শেষ হলে পরিবারের সবাই মিলে নবান্ন উৎসবে আনন্দ করি। প্রতি বছর ১ অগ্রহায়ণ থেকে এক সপ্তাহব্যাপী নবান্ন উৎসব।



