পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে রিফর্ম করতে হবে বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের ৮০ ভাগ অঞ্চলের প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) যা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে, সব স্থাপনা, লাইন, উপকেন্দ্র নির্মাণ, এবং মিটার, ট্রান্সফরমারসহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক মালামাল সরবরাহ করে থাকে। তবে বোর্ড নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের মাধ্যমে আর্থিক লুটপাট এবং গ্রাহক ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। তা ছাড়া যানবাহন ও জনবলের অভাবে গ্রাহক পর্যায়ে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে পবিস কর্মকর্তাদের ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আরইবির সাথে গ্রাহকদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক না থাকায় সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন ও সেবা প্রদানেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আন্দোলন দমনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তাদের ওপর যে জুলুম করা হচ্ছে, তা আমরা কখনো মেনে নেব না এবং গ্রামীণ জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, দেশের শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হলেও এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত টেকসই ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এর জন্য আরইবি ও পবিসের সংস্কার জরুরি। বর্তমানে, রিফর্ম আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পবিস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, কিন্তু এরই মধ্যে আরইবি ২৪ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত ও ১৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে, ১১ জনকে রিমান্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে, যা সরকার বিরোধী আন্দোলন হিসেবে প্রচারের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ধরনের দমন-পীড়নমূলক ব্যবস্থা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনের মতোই অমানবিক ও অসঙ্গতিপূর্ণ, যা হেফাজত কখনো সমর্থন করে না। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সবসময়ই জুলুমের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আমরা পবিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আন্দোলন দমনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ছাড়াও গ্রামীণ জনগণের বৈষম্যহীন বিদ্যুৎ সেবা প্রাপ্তির অধিকার আদায়ে অবিলম্বে আরইবি ও পবিস সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।