যশোরের চৌগাছায় গাড়ল পালন করে লাভবান হচ্ছেন উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা নওদাপাড়া (দানবাক্স) গ্রামের মৃত নওশের আলীর ছেলে কৃষক শরীফুল ইসলাম। অল্প সময়ে তার এমন সফলতা দেখে আরো অনেক যুবক কৃষক গাড়ল পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এটি ভেড়ারই একটি ভিন্ন জাত। বর্তমানে এই জাতের পশুপালনে লাভের মুখ দেখছেন উদ্যোক্তারা।
চৌগাছা উপজেলার ভারত সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম জানান, গাড়ল ভেড়া জাতীয় একটি প্রাণী, তবে ভেড়া নয়। এটি হলো ভারতের নাগপুর অঞ্চলের ছোট নাগপুরি ভেড়ার সাথে আমাদের দেশীয় ভেড়ার ক্রসব্রিড। ভেড়া থেকে গাড়ল বেশি বড় হয় এবং এর লেজও তুলনামূলক লম্বা। এর গোশত খুবই সুস্বাদু। এটি লালন পালনে খরচ কম এবং লাভ বেশি। গাড়ল পালন করে বছরে লাখ টাকা আয় করছেন বলে জানান শরিফুল।
শরীফুলের দেখাদেখি এ উপজেলায় সিংহঝুলী গ্রামের নাসিব ও নাকিব নামের দুই ভাই নাহার অ্যাগ্রো নামে গাড়লের আরো একটি খামার গড়ে তুলেছেন। নাসিব খান বলেন, গাড়ল পালন করে সব খরচা বাদ দিয়েও বছরে তিন-চার লাখ টাকা আয় আমাদের। তিনি বলেন, একটি মাদি গাড়ল গড়ে তিনটি করে বাচ্চা দেয়। দুই মাস বয়সের বাচ্চা প্রতিটি পাঁচ-ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। এরা ভেড়ার মতোই নিরীহ ও বোকা। দেখতে ভেড়ার চেয়েও সুন্দর। অনেকটা দুম্বার মতো। তবে দুম্বা নয়, ভেড়ারই একটি ভিন্ন জাত।
খামারি শরীফুল ইসলাম বলেন, আমি বিগত ৯ বছর আগে মেহেরপুর জেলা থেকে মাত্র দু’টি গাড়ল নিয়ে আমার খামার গড়ে তুলি। এগুলো পরিবেশের সাথে খুব সহজেই মানিয়ে চলতে পারে। এর লালন-পালন খুবই সহজ। সাধারণত কাঁচা ঘাস, গাছের পাতা, বিচুলী, ভূষি, খৈলসহ সব ধরনের খাবারই খায় এরা। স্বভাবে শান্তশিষ্ট হলেও পুরুষ গাড়ল কিছুটা রাগি স্বভাবের হয়।
শরীফুল জানান, দু’টি গাড়ল নিয়ে খামার শুরু করেছিলাম। বর্তমানে আমার খামারে ৫০টি গাড়ল রয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে দেড় হাজার গাড়লের একটি খামার গড়ে তুলব আমি। মাদি গাড়ল প্রতিটি ১২-১৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর গর্ভবতী গাড়ল বিক্রি হয় ১৫-১৬ হাজার টাকায়।
উপজেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা: আনুয়ারুল করিম বলেন, গাড়ল ভেড়ারই একটি ভিন্ন জাত। বর্তমানে এর লালন-পালন ও চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাড়লের গোশতের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ ভেড়ার চেয়ে বেশি। এর গোশতে কোলেস্টেরলের মাত্রাও কম। সব বয়সী মানুষ এর গোশত খেতে পারেন।



